নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ফের এলাকার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সকালে নন্দনায়কবাড় বুথে ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেন, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নন্দীগ্রামের ভোটার হয়ে থাকবেন। একই সঙ্গে রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের গ্রেফতারি নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান এবং ভোটকেন্দ্রের নির্দিষ্ট পরিসরে প্রার্থী বা এজেন্ট নন এমন কারও ঘোরাফেরার নিয়ম নেই।
মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ শান্তিকুঞ্জ থেকে বেরিয়ে ভোটকেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা দেন শুভেন্দু। কনভয় থেকে নেমে টোটোয় করে বুথে পৌঁছন তিনি। ভোট দেওয়ার পর বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সঙ্গেও কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে শুভেন্দুর দাবি, নন্দীগ্রামে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ চলছে। উপনির্বাচনে সাধারণত ভোটের হার কম থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে ভোটারদের বেশি সংখ্যায় বুথমুখী হওয়ার বার্তা দেন।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও এ দিন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নন্দীগ্রাম ছেড়ে অন্যত্র থাকলেও এলাকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে না। ‘শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নন্দীগ্রামের ভোটারই থাকব’—এই মন্তব্যের মাধ্যমে সেই অবস্থানই স্পষ্ট করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভবানীপুর আসনটি ধরে রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়াতেই এই উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। ফলে এ বারের ভোটে তাঁর নিজের আসনেই বিজেপির লড়াই রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
এ দিন নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথের হয়ে সক্রিয় ছিলেন শুভেন্দু। ভোট দেওয়ার পর তাঁর বক্তব্যে তাই শুধু ভোটের পরিবেশ নয়, নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে আসে।
অন্য দিকে, রেজিনগর উপনির্বাচনে সকাল থেকেই উত্তেজনা দেখা দেয়। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর ভোট দেওয়ার পর দলের কার্যালয়ে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাঁর তীব্র বচসা হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তোলেন তিনি। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে এবং পরবর্তী সময়ে গ্রেফতারির কথা জানানো হয়।
হুমায়ুনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে শুভেন্দুর বক্তব্য, আইন সকলের জন্য সমান। ভোটকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয় বলেও তিনি জানান। তাঁর দাবি, হুমায়ুন প্রার্থী বা পোলিং এজেন্ট না হওয়ায় ওই এলাকায় তাঁর ঘোরাফেরা নিয়ে পুলিশের আপত্তি ছিল।
রেজিনগরে হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবি আজাদ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী। ভোটের দিন তাঁর বাবাকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘাত উপনির্বাচনের উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। তবে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ এবং ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর তোলা অভিযোগ—দুই বিষয়েই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য আলাদা।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নন্দীগ্রামে ৩২৩টি এবং রেজিনগরে ৩১৫টি বুথ রয়েছে। দুই কেন্দ্রের ভোটের ফল প্রকাশ হবে ৯ অক্টোবর।



