মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধীদের মিছিল ও বিক্ষোভ ঘিরে মঙ্গলবার রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল। বিরোধীদের কর্মসূচিকে নিশানা করে বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধীকে ফের ‘রি-লঞ্চ’ করার চেষ্টা করছে কংগ্রেস। পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জ্ঞানেশ কুমারকে ‘গণেশ’-এর সঙ্গে তুলনা করার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে আক্রমণ করেন।
দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে সম্বিতের দাবি, রাহুল গান্ধীকে এর আগেও একাধিক বার ‘লঞ্চ’ এবং ‘রি-লঞ্চ’ করার চেষ্টা করেছে কংগ্রেস। তাঁর অভিযোগ, সেই রাজনৈতিক প্রচেষ্টা সফল না হওয়ায় এখন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ঘিরে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। সম্বিত আরও অভিযোগ করেন, বিরোধীরা পরিকল্পিত ভাবে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করছে। এগুলি বিজেপি নেতার রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ; এগুলির সত্যতা স্বাধীন ভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
এর পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণেরও জবাব দেন সম্বিত। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির নির্বাচনী সাফল্যের নেপথ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নন, রয়েছেন ‘গণেশ’। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে গণেশ জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিবেকের প্রতীক—এই অর্থেই তিনি ‘জ্ঞানেশ’ এবং ‘গণেশ’-এর মধ্যে শব্দের খেলায় বিজেপির পক্ষে সওয়াল করেন।
বিজেপির এই মন্তব্যের পরেই পাল্টা সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যের মূলে ছিল জ্ঞানেশ কুমারকে ‘গণেশ’ হিসেবে তুলে ধরার বিজেপির চেষ্টা। অভিষেক কটাক্ষ করে বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে এখন ভগবান গণেশের মর্যাদা দিতে চাইলে তার রাজনৈতিক ফল বিজেপিকেই বুঝতে হবে। রামমন্দিরের রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে অযোধ্যায় বিজেপির পরাজয়ের কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, গণেশকে সামনে আনলে মহারাষ্ট্রেও বিজেপিকে পরাজয়ের মুখে পড়তে হবে।
অর্থাৎ, বিরোধীদের মিছিল ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্ক দ্রুতই রাহুল গান্ধী এবং জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূলের সরাসরি বাকযুদ্ধে পরিণত হয়েছে। এক দিকে বিজেপি রাহুলের নেতৃত্ব এবং কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশলকে আক্রমণ করছে, অন্য দিকে তৃণমূল জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে বিজেপির মন্তব্যকে হাতিয়ার করে পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে।
এ দিন বিজেপির বক্তব্যে কংগ্রেসের পাশাপাশি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার চেষ্টা করার অভিযোগও তোলা হয়। সম্বিত প্রশ্ন তোলেন, কংগ্রেসের আমলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরবর্তী সময়ে সাংবিধানিক পদে নিয়োগ নিয়ে বিরোধীরা যে প্রশ্ন তুলছে, সেই একই মানদণ্ড অতীতে প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না।
অন্য দিকে, বিরোধীদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা SIR নিয়ে তাঁদের প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। সেই দাবিতেই মঙ্গলবার সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ মিছিল আটকে দেওয়ার পর রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ একাধিক বিরোধী নেতা অবস্থানে বসেন। পরে তাঁদের কয়েক জনকে আটক করা হয়।
এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই অভিষেকের ‘জ্ঞানেশ-গণেশ’ মন্তব্য এবং সম্বিতের ‘রাহুল রি-লঞ্চ’ কটাক্ষ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধীদের আন্দোলন যত এগোচ্ছে, ততই তা নীতিগত বিতর্কের পাশাপাশি বিজেপি বনাম বিরোধী শিবিরের তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত হচ্ছে।


