গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী—ভারতের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নরেন্দ্র মোদীর ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাষ্ট্রনেতারা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। মোদীকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসার পাশাপাশি তাঁকে ‘বিষ্ণুর অবতার’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন তোবগে।
একটি বার্তায় শেরিং তোবগে ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরেছেন। সেই সময় তোবগে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। তবে ওই সাক্ষাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জানান, মোদীকে তিনি ‘বড় ভাই’ হিসেবে দেখেছিলেন।
তোবগের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু বয়সের পার্থক্যের কারণে নয়, ওই সাক্ষাতে নরেন্দ্র মোদী তাঁর সঙ্গে বড় ভাইয়ের মতোই স্নেহ ও আন্তরিকতার সঙ্গে আচরণ করেছিলেন। সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাই নিজের শুভেচ্ছাবার্তায় তুলে ধরেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী।
নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভুটানের বৌদ্ধ ঐতিহ্যের প্রসঙ্গও সামনে এনেছেন শেরিং তোবগে। তাঁর মতে, একজন নেতার মধ্যে জ্ঞান বা প্রজ্ঞা, করুণা এবং সাহস—এই তিনটি গুণ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এই গুণগুলি জনসেবাকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
এরপরই মোদীর নেতৃত্বকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ধর্মীয় উপমা ব্যবহার করেছেন তোবগে। তাঁর মন্তব্যে নরেন্দ্র মোদীকে ‘বিষ্ণুর অবতার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মন্তব্যই শুভেচ্ছাবার্তার অন্যতম আলোচিত অংশ হয়ে উঠেছে।
ভারত-ভুটান সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে তোবগের বার্তায়। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদী তাঁর প্রথম বিদেশ সফরেই ভুটানে গিয়েছিলেন। সেই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।
তোবগের বক্তব্য অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত ও ভুটানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও তিনি নিজের বার্তায় তুলে ধরেছেন।
ভারত-ভুটানের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠভাবে বোঝাতে ‘B4B’ শব্দবন্ধও ব্যবহার করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ব্যাখ্যায়, এর অর্থ ‘Bharat for Bhutan; Bhutan for Bharat’। অর্থাৎ দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের সম্পর্ককেই এই শব্দবন্ধের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তিকে ঘিরে বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার শুভেচ্ছাবার্তার মধ্যে শেরিং তোবগের মন্তব্য তাই আলাদা মাত্রা পেয়েছে। ব্যক্তিগত সাক্ষাতের স্মৃতি, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং ভারত-ভুটান সম্পর্ক—তিনটি বিষয়ই তাঁর বার্তায় জায়গা পেয়েছে।
মোদীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনের এই দীর্ঘ সময়ের উল্লেখ করে তোবগে যে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাতে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সৌহার্দ্যের কথাও উঠে এসেছে। বিশেষ করে ‘বড় ভাই’ হিসেবে মোদীকে দেখার তাঁর অভিজ্ঞতা এবং ‘বিষ্ণুর অবতার’ উপমা শুভেচ্ছাবার্তাটিকে আলোচনায় এনেছে।



