বিজয় দেবেরাকোন্ডা (Vijay Deverakonda) ও রশ্মিকা মন্দান্না (Rashmika Mandanna) অভিনীত ‘Ranabaali’-র ট্রেলার প্রকাশ্যে আসতেই সিনেমাটি নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার মুক্তি পাওয়া প্রায় চার মিনিটের ট্রেলারে উঠে এসেছে ঔপনিবেশিক শাসন, দুর্ভিক্ষ, মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই এবং তার মধ্য থেকে জন্ম নেওয়া এক প্রতিরোধের গল্প। ছবিটি ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।
রাহুল সাঙ্কৃত্যায়ন (Rahul Sankrityan) পরিচালিত এই ছবির পটভূমি উনিশ শতকের দক্ষিণ ভারত। ১৮৭৬-৭৮ সালের ভয়াবহ মাদ্রাজ দুর্ভিক্ষের সময়কে গল্পের ভিত্তি করা হয়েছে। ট্রেলারে সেই সময়ের অনাহার, শোষণ এবং ব্রিটিশ প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সংঘাতের ছবি ধরা পড়েছে।
তবে ‘Ranabaali’ কোনও সরাসরি ঐতিহাসিক জীবনী নয়। নির্মাতাদের বক্তব্য এবং পরিচালকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাস্তব ইতিহাসের পটভূমি থেকে একটি alternate history বা কল্পনানির্ভর গল্প তৈরি করা হয়েছে। সেই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন রায়লসীমার এক যোদ্ধা চরিত্র—সিঙ্গানামালা বোব্বিলি রানাবালি, যার ভূমিকায় বিজয় দেবেরাকোন্ডা।
ট্রেলারের শুরুতেই লোকগাথার আবহ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এক কাহিনির সূত্র ধরে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় রানাবালির সঙ্গে। এরপরই গল্প ঢুকে পড়ে ব্রিটিশ শাসনের কঠোর বাস্তবতায়। গ্রামের মানুষকে কাজের বিনিময়ে মজুরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও শোষণ ও অত্যাচারের ছবি সামনে আসে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই রানাবালির প্রশ্ন—কেন তাঁর গ্রামের উপর অন্য কারও শাসন থাকবে?
দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। মানুষের হাতে খাবার নেই, কৃষিজমি বিপর্যস্ত, অথচ শাসকের চাপ কমছে না। ট্রেলারে এই সংকটের মধ্যেই বিজয়ের চরিত্রকে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের রক্ষক এবং প্রতিরোধের মুখ হয়ে উঠতে দেখা যায়।
এই ছবিতে রশ্মিকা মন্দান্নার চরিত্রের নাম জয়াম্মা (Jayamma)। তিনি শুধু বিজয়ের চরিত্রের স্ত্রী নন, তাঁর লড়াইয়েরও সঙ্গী। ট্রেলারে দু’জনের সম্পর্কের আবেগের পাশাপাশি কঠিন সময়ের মধ্যে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের টানাপড়েনও দেখা গিয়েছে। ফলে ছবিটি শুধুই যুদ্ধ বা প্রতিশোধের গল্প হয়ে থাকছে না।
ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন হলিউড অভিনেতা আর্নল্ড ভসলু (Arnold Vosloo)। তিনি অভিনয় করেছেন স্যার থিওডোর হেক্টর নামে এক ব্রিটিশ আধিকারিকের ভূমিকায়। চরিত্রটি বাস্তব ইতিহাসের ব্রিটিশ প্রশাসক স্যার রিচার্ড টেম্পলের আদলে তৈরি হলেও ছবির কাহিনিতে তাকে কাল্পনিক চরিত্র হিসেবেই ব্যবহার করা হয়েছে।
পরিচালক রাহুল সাঙ্কৃত্যায়ন আগেই জানিয়েছেন, ‘Ranabaali’ মূলত বাস্তব ইতিহাসকে হুবহু পুনর্নির্মাণ করছে না। বরং ইতিহাসের একটি ভয়াবহ অধ্যায়কে ভিত্তি করে তিনি এমন একটি কল্পিত পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, যেখানে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং প্রতিরোধ অন্য পথে এগোয়। এই কারণেই ছবিটিকে প্রচলিত period drama-র পাশাপাশি alternate history হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ট্রেলারের অ্যাকশন দৃশ্যেও বিজয়ের চরিত্রকে বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যাচ্ছে। গ্রামবাসীদের উপর অত্যাচার থেকে শুরু করে ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ—প্রায় চার মিনিটের ঝলকে ছবির масштаб স্পষ্ট। বিশেষ করে শেষের দিকের কয়েকটি দৃশ্যে বিজয়ের চরিত্রকে একেবারে অন্য রূপে দেখা যায়।
‘Ranabaali’ নিয়ে আগ্রহের আরেকটি কারণ হল বিজয় ও রশ্মিকার জুটি। দু’জনের এটি একসঙ্গে তৃতীয় ছবি এবং বিয়ের পর প্রথম পর্দার জুটি হিসেবে ছবিটিকে ঘিরে দর্শকদের কৌতূহলও রয়েছে। তবে ছবির প্রচারে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে গল্পের ঐতিহাসিক পটভূমি এবং অ্যাকশনকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ছবিটি তৈরি করেছে মাইথ্রি মুভি মেকার্স (Mythri Movie Makers)। সঙ্গীত পরিচালনায় রয়েছেন অজয়-অতুল (Ajay-Atul)। ‘Ranabaali’ ১৬ অক্টোবর ২০২৬ বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা, এবং তেলুগুর পাশাপাশি হিন্দি, তামিল, কন্নড় ও মালয়ালম ভাষাতেও ছবিটি মুক্তি পাবে।
গুগলে ‘Ranabaali’ নিয়ে হঠাৎ যে ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে, তার পিছনে মূল কারণ এই নতুন ট্রেলার। তবে ট্রেলার যতই প্রত্যাশা বাড়াক, ছবিটি ইতিহাসকে কতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে ব্যবহার করতে পারে এবং কল্পনার সঙ্গে সেই ইতিহাসের ভারসাম্য কতটা বজায় রাখে—সেটাই শেষ পর্যন্ত ছবিটির সবচেয়ে বড় পরীক্ষার জায়গা।



