মাত্র ৩০ বলে ৬৯ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ইন্দোরে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন অভিষেক শর্মা। রবিবার হোলকার স্টেডিয়ামে (Holkar Stadium) তাঁর ইনিংসে ছিল ছ’টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। এই ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ২,০০০ রান করার নজির গড়লেন ভারতীয় ওপেনার। বলের হিসাবে এই মাইলফলকে পৌঁছতে তিনি পিছনে ফেললেন সূর্যকুমার যাদবকে। একই সঙ্গে পাওয়ারপ্লের মধ্যে বারবার অর্ধশতরান করার বিরল কৃতিত্বও নিজের নামে রাখলেন অভিষেক।
রবিবার টস জিতে প্রথমে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরুতেই সঞ্জু স্যামসন ৩ রান করে ফিরে গেলেও অভিষেকের ব্যাটে রানের গতি কমেনি। ইশান কিষানের সঙ্গে জুটি বেঁধে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তিনি। মাত্র ১৮ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন অভিষেক। শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ৬৯ রান করে আউট হন তিনি।
ইশান কিষানও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। ১৮ বলে ৩৭ রান করে আউট হওয়ার আগে অভিষেকের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ১০৮ রানের জুটি গড়েন তিনি। এই জুটির সৌজন্যে শুরুতে ধাক্কা সামলে দ্রুত রান তোলে ভারত। অভিষেকের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৫টি ছক্কা; তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২৩০।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২,০০০ রান পূর্ণ করতে অভিষেকের প্রয়োজন ছিল ৩৩ রান। ইন্দোরে সেই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই রান করতে তাঁর লেগেছে মাত্র ১,১৪৫টি বল। এর আগে বলের হিসাবে দ্রুততম ২,০০০ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক রান করার রেকর্ড ছিল সূর্যকুমার যাদবের দখলে। তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন ১,১৬৪ বলে। অভিষেক সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন।
২,০০০ রান পূর্ণ করার মাধ্যমে ভারতের ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবেও এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন অভিষেক। তাঁর আগে এই তালিকায় রয়েছেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, সূর্যকুমার যাদব, হার্দিক পাণ্ড্য এবং কে এল রাহুল।
অভিষেকের আর একটি উল্লেখযোগ্য কীর্তি তাঁর ব্যাটিংয়ের গতি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ১৮ বলে অর্ধশতরান করার ফলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইনিংসের প্রথম ছ’ওভারের মধ্যে সাত বার ৫০ রান পূর্ণ করার নজির গড়লেন তিনি। এই নিরিখে অন্য কোনও ক্রিকেটার তাঁর ধারেকাছে নেই বলে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিষেকের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের আর একটি দিক হল ছক্কা মারার ধারাবাহিকতা। ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর ছক্কার সংখ্যা ৬৮-তে পৌঁছয়, যা ওই বছরে সূর্যকুমার যাদবের সমান। অর্থাৎ, ক্যালেন্ডার বছরে সর্বাধিক ছক্কার নজিরেও দু’জনের নাম পাশাপাশি রয়েছে।
তবে অভিষেকের ব্যক্তিগত সাফল্যের দিনেও ভারতের ইনিংসে পরে নিয়মিত উইকেট পড়েছে। ইশান কিষান ফিরে যাওয়ার পর শ্রেয়স আয়ার দ্রুত আউট হন। তিলক বর্মা, নীতীশ কুমার রেড্ডি ও অক্ষর পটেল কিছু রান যোগ করলেও শুরুতে পাওয়া গতিকে শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ।
ইন্দোরে অভিষেকের ৩০ বলে ৬৯ রানের ইনিংস তাই শুধু একটি ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের গল্প নয়। দ্রুততম ২,০০০ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক রান এবং পাওয়ারপ্লেতে বারবার অর্ধশতরানের নজির—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং নতুন করে নজর কাড়ল।



