পর্তুগালের জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় শাস্তির মুখে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। শনিবার, ১০ অক্টোবর, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (Portuguese Football Federation বা FPF) তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে এবং সাময়িক সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নেয়। নেশনস লিগের ম্যাচে প্রথম একাদশে সুযোগ না পাওয়া এবং কোচ জর্জ জেসুসের (Jorge Jesus) সঙ্গে মতবিরোধের পর শিবির ছেড়েছিলেন পর্তুগালের অধিনায়ক। তবে এই সাসপেনশন চূড়ান্ত শাস্তি নয়; তদন্তের ফলের উপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
৪১ বছর বয়সি রোনাল্ডোর এই ঘটনায় জাতীয় দলের শৃঙ্খলা এবং কোচের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেডারেশন বিষয়টিকে জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করছে। রোনাল্ডো নিজেও আগেই জানিয়েছিলেন, শিবির ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছেন এবং নিজের কাজের জন্য শাস্তি হলেও তা মেনে নিতে প্রস্তুত।
রোনাল্ডোর শিবির ছাড়ার ঘটনার সূত্রপাত নরওয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে। ২৭ সেপ্টেম্বরের সেই ম্যাচে তাঁকে পরিবর্ত খেলোয়াড় হিসেবে রাখা হলেও মাঠে নামানো হয়নি। এরপর ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে তাঁকে প্রথম একাদশে রাখা হবে না বলে জানানো হয়। এই পরিস্থিতিতে কোচের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ আরও বাড়ে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর কোপেনহেগেনে জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে চলে যান তিনি।
রোনাল্ডোর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে নরওয়ের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ মিনিট খেলানোর কথা বলা হয়েছিল। সেই আশ্বাসে ওয়ার্ম-আপ করলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি। পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগও তোলেন তারকা ফুটবলার। তবে এটি রোনাল্ডোর নিজের বক্তব্য; কোচের বিরুদ্ধে অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ঘটনার পর নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চান রোনাল্ডো। সতীর্থদের ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত যে ঠিক হয়নি, তা স্বীকার করে তিনি জানান, ফেডারেশন যে শাস্তি দেবে, তা মেনে নেবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পর্তুগালের হয়ে খেলার জন্যও নিজের আগ্রহের কথা স্পষ্ট করেন। অর্থাৎ, এই ঘটনা থেকে জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা তিনি করেননি।
ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি (Disciplinary Council) ৯ অক্টোবর তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়। ১০ অক্টোবর মামলাটি শৃঙ্খলামূলক তদন্ত কমিটির কাছে পাঠানো হয় এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রক্রিয়া চালানোর কথা জানানো হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার উপরেও বিধিনিষেধ রয়েছে বলে ফেডারেশনের বিজ্ঞপ্তির উদ্ধৃতি দিয়ে পর্তুগালের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
রোনাল্ডোর ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য শুধু সাময়িক সাসপেনশনে সীমাবদ্ধ নয়। জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগতভাবে কোচের সঙ্গে মতবিরোধ—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার প্রশ্নও সামনে এসেছে। তবে চূড়ান্ত শাস্তির মেয়াদ বা পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না।



