লোকসভা ও রাজ্যসভায় একের পর এক সাংসদের দূরত্ব তৈরির জল্পনার মাঝেই তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ। সূত্রের দাবি, দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায় এবার বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে নাম লেখাতে চলেছেন। এমন পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রেও অস্বস্তি বাড়ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে স্বামী নির্বেদ রায়, ছেলে ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি পৌঁছেছেন মালা রায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, রাজধানীতে পৌঁছনোর পর বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ না হলেও বুধবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিতে সই হতে পারে বলেই খবর।
গত কয়েকদিন ধরেই তৃণমূলের একাধিক সাংসদের অবস্থান নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সায়নী ঘোষ, পার্থ ভৌমিক এবং ইউসুফ পাঠানের মতো নাম ঘিরে নানা রাজনৈতিক আলোচনা চলছিল। সেই আবহেই মালা রায়ের নাম সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ দক্ষিণ কলকাতার সংগঠন ও পুর রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রভাব রয়েছে।
মালা রায় বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ হওয়ার পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। শহরের ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন এবং তৃণমূলের পুরভিত্তিক শক্তির সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। ফলে তাঁর সম্ভাব্য অবস্থান পরিবর্তনকে শুধুমাত্র সাংসদ স্তরের ঘটনা হিসেবে দেখছে না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, লোকসভায় তাদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সোমবার রাতে স্পিকার ওম বিড়লার উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে ১৬ জন সাংসদের স্বাক্ষর ছিল বলে জানা গিয়েছে। এরপর আরও কয়েকজন সাংসদের নাম সামনে আসে। মালা রায়ের পাশাপাশি মিতালি বাগও যদি ওই শিবিরে যোগ দেন, তাহলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর শক্তি ২০-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে মালা রায়ের সম্ভাব্য সরে যাওয়া তৃণমূলের সংগঠনের কাছে বড় বার্তা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে কলকাতা শহরের নিচুতলার কর্মী ও নেতৃত্বের মধ্যে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
একইসঙ্গে লোকসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কীর্তি আজাদদের অবস্থানও তুলনামূলকভাবে আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে জাতীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে কলকাতার পুর প্রশাসন—সব ক্ষেত্রেই এই নতুন সমীকরণের দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



