লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। বিদ্রোহী সাংসদদের ব্লকে নতুন করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নাম যোগ দেওয়ার জল্পনা ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দক্ষিণ কলকাতা এবং যাদবপুরের দিকে, কারণ দলের দুই পরিচিত মুখ মালা রায় ও সায়নী ঘোষকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
দিল্লিতে কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তৃণমূলের একদল সাংসদের বৈঠকের পর থেকেই বিক্ষুব্ধ শিবির নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়। শতাব্দী রায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের নেতৃত্বে গঠিত এই গোষ্ঠী নিজেদের পৃথক অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে বলেই রাজনৈতিক সূত্রের দাবি।


বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাঁদের সমর্থনকারী সাংসদের সংখ্যা ইতিমধ্যেই কুড়ির গণ্ডি পেরিয়েছে। প্রথম বৈঠকে ১৬ জন সাংসদ সরাসরি উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। পাশাপাশি আরও কয়েকজন সাংসদ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সমর্থন জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
এই আবহেই নতুন জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায়। দক্ষিণ কলকাতা দীর্ঘদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেয়েছিলেন মালা। সেই তিনিই নাকি এখন বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন— এমন দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।
একই সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষের নামও। তৃণমূলের যুব ও মহিলা সংগঠনের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত সায়নীকে নিয়েও নানা মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে। যদিও এই বিষয়ে তাঁর তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।


রাজনৈতিক সূত্রে আরও দাবি করা হচ্ছে, আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহার নামও বিদ্রোহী শিবিরের আলোচনায় উঠে এসেছে। যদিও এই দাবিগুলির কোনও সরকারি বা লিখিত নিশ্চিতকরণ এখনও সামনে আসেনি।
বর্তমানে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে কতজন সাংসদ রয়েছেন, তা নিয়েও ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে আসছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি এই সংখ্যা আরও বাড়ে, তাহলে লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ দলকে ঘিরে নতুন সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
এদিকে স্পিকারের কাছে পৃথক ব্লকের স্বীকৃতির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় স্তরে আলোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
লোকসভায় তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের প্রধান আগ্রহের বিষয়। আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহই নির্ধারণ করবে দলের সাংসদ রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



