ফের বড় চাপে অভিষেক! এবার ত্রিপুরা আদালতের সমন পৌঁছল কালীঘাটে, বাড়ল আইনি অস্বস্তি

ত্রিপুরার ২০২১ সালের একটি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ খোয়াই আদালতের। দিল্লিতে থাকায় কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছল সমন।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি চাপ আরও বাড়ল। সই জালিয়াতি মামলায় তদন্তের মুখে থাকা অবস্থাতেই এবার ত্রিপুরার খোয়াই আদালত থেকে তাঁর নামে সমন জারি হয়েছে। আদালতের নির্দেশে সেই নোটিস বুধবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবনে। রাজনৈতিক ও আইনি মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, খোয়াই আদালতের জারি করা সমন আলিপুর আদালতের মাধ্যমে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছয়। তবে সেই সময় তিনি দিল্লিতে থাকায় নোটিসটি গ্রহণ করেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

এই মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালের আগস্ট মাসে। ত্রিপুরায় দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে তৃণমূলের একাধিক যুবনেতা আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ ওঠে। দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা এবং জয়া দত্ত-সহ কয়েকজন নেতার উপর হামলার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

ঘটনার পর তৃণমূলের কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করে ত্রিপুরা পুলিশ। তাঁদের মুক্তির দাবিতে খোয়াই থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ-সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে পরবর্তীতে মামলা দায়ের করা হয় বলে জানা গিয়েছে।

সেই মামলার শুনানির সূত্রেই এবার অভিষেককে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে ত্রিপুরার এই মামলা নতুন করে রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে। বিশেষ করে এমন সময়ে এই সমন এল, যখন একাধিক বিতর্ক ও তদন্তকে ঘিরে চাপের মুখে রয়েছেন তৃণমূলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা।

ইতিমধ্যেই সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় তিন দফা তলব এড়িয়েছেন অভিষেক। তদন্তকারী সংস্থার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেও তিনি হাজিরা দেননি। তার পরিবর্তে দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর, অভিষেকের সাম্প্রতিক সফর ও গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারি ভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

ত্রিপুরার সমন, চলমান তদন্ত এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর চাপ যে ক্রমশ বাড়ছে, তা স্পষ্ট। আগামী দিনে তিনি কী পদক্ষেপ করেন এবং আদালতের নির্দেশে কীভাবে সাড়া দেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর