দিল্লিতে টানা দু’দিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রথমে সোনিয়া গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক, তারপর রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৮৮ মিনিটের দীর্ঘ আলোচনা— সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী ঐক্যের সমীকরণ নতুন মাত্রা পেল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর লড়াইয়ে দুই দলের মধ্যে সমন্বয়ের রূপরেখা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। মঙ্গলবার ১০ জনপথে সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক ঘিরে যেমন জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তেমনই বুধবার রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ বৈঠক সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
সূত্রের দাবি, এই বৈঠকে জাতীয় রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি, বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বিজেপি-বিরোধী শক্তিগুলিকে এক মঞ্চে রাখার কৌশল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রে খবর, জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে কংগ্রেসের নেতৃত্বকে মেনে নিয়ে চলার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে তৃণমূল। তবে আপাতত পশ্চিমবঙ্গে আসন সমঝোতা বা নির্বাচনী জোট নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হচ্ছে না। রাজ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ভোটের অঙ্ক মাথায় রেখেই ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
তৃণমূলের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে দলের নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটভিত্তিকে গুরুত্ব দিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে কংগ্রেসও আপাতত বিরোধী ঐক্যের বৃহত্তর কাঠামোকে শক্তিশালী করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
ইতিমধ্যেই দিল্লি সফর শেষ করে কলকাতায় ফিরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাজধানী থেকে ফেরার কথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেদিকেই গড়াক না কেন, তা মোকাবিলার জন্য তিনি প্রস্তুত।
দিল্লির এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলির পর কংগ্রেস ও তৃণমূলের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা না গেলেও বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণে এই আলোচনা যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনও দ্বিমত নেই।



