অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে মঙ্গলবার নাটকীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা। একদিকে ভবানীভবনের চতুর্থ তলায় ‘ডিজে মন্তব্য’ মামলায় সিআইডির জেরার মুখে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, অন্যদিকে প্রায় একই সময়ে কালীঘাটে তাঁর বাসভবন ও সংলগ্ন সম্পত্তিতে মাপজোক শুরু করেছে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, দুপুর থেকে ভবানীভবনে সিআইডির একাধিক আধিকারিকের প্রশ্নের মুখোমুখি রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী প্রচারের সময় করা ‘ডিজে’ মন্তব্যকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ঠিক সেই সময়েই কালীঘাটের পটুয়া পাড়া এলাকায় অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি এবং শান্তিনিকেতন বিল্ডিংয়ে পৌঁছয় কলকাতা পুরসভার একটি দল। পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকরা সেখানে বিস্তারিত পরিমাপের কাজ শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আধিকারিকদের হাতে ছিল মাপজোকের ফিতে, ডিজিটাল মিটার এবং অন্যান্য পরিমাপক সরঞ্জাম। বাড়ির সীমানা, রাস্তা, ফুটপাত এবং নির্মাণের মধ্যবর্তী দূরত্ব খতিয়ে দেখা হয়।
পুরসভা সূত্রে ইঙ্গিত, সংশ্লিষ্ট নির্মাণে সমস্ত নিয়ম মেনে ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছিল কি না এবং নির্ধারিত নির্মাণবিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করাই এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য।
বিশেষভাবে দেখা হচ্ছে, রাস্তা ও ফুটপাত থেকে কতটা দূরত্ব বজায় রেখে নির্মাণ করা হয়েছে এবং কোনও অংশ বেআইনিভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে কি না। পরিদর্শনের সময় আধিকারিকদের বিভিন্ন পরিমাপ নথিভুক্ত করতেও দেখা যায়।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, একদিকে যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডির জেরার মুখে, তখনই তাঁর বাসভবনে পুরসভার এই পরিদর্শন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
তবে কলকাতা পুরসভার তরফে এখনও পর্যন্ত এই পরিদর্শন নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই এই মাপজোক করা হচ্ছে, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত।
এখন নজর রয়েছে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ এবং পুরসভার পরিদর্শন—দুই ক্ষেত্রেই পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তার উপর। কারণ দিনের এই দুই সমান্তরাল ঘটনাই রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



