চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে তদন্তে বড় অগ্রগতি—উত্তরপ্রদেশে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার তিন সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যেই কলকাতায় নিয়ে এসেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগীর এই চাঞ্চল্যকর খুনে জড়িতদের ধরতে সিটের এই পদক্ষেপে মামলার গতিপথে নতুন মোড় এসেছে।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম ময়ঙ্ক শর্মা, ভিকি মৌর্য ও রাজ সিংহ। এদের মধ্যে অন্তত একজন পেশাদার শুটার বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া তিনজনের সঙ্গে বিহারের যোগসূত্রও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। রবিবার গভীর রাতে উত্তরপ্রদেশে অভিযান চালিয়ে তাঁদের পাকড়াও করা হয়। এরপর দ্রুত কলকাতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। সোমবারই আদালতে তোলা হবে ধৃতদের।


গত ৬ মে রাতের সেই হামলা ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনে হঠাৎ একটি চারচাকার গাড়ি এসে দাঁড়ায়, ফলে তাঁর গাড়ি থমকে যায়। সেই সুযোগে দুই দিক থেকে মোটরবাইকে চেপে এসে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। এলোপাথাড়ি গুলিতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথের। গুরুতর জখম হন তাঁর গাড়ির চালক, যিনি এখনও চিকিৎসাধীন।
এই মামলার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে, যেখানে এসটিএফ ও সিআইডির অভিজ্ঞ আধিকারিকরাও রয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি ঝাড়খণ্ড থেকে আনা হয়েছিল। বালি টোলপ্লাজ়ায় অনলাইনে টোল পরিশোধের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের নাগাল পান।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অন্তত এক থেকে দেড় মাস আগে থেকেই খুনের ছক কষা হয়েছিল। চন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্ক, সাম্প্রতিক বিরোধ—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই খুনে ব্যবহৃত গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার নম্বরপ্লেট ভুয়ো বলে জানা গেছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া দুই মোটরবাইকের নম্বরপ্লেটও ভুয়ো বলে সন্দেহ পুলিশের।


তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের জেরা করেই এই খুনের মূল ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। ফলে আগামী কয়েকদিন এই মামলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।







