মধ্যমগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথ খুনে বড় সাফল্য তদন্তকারীদের। উত্তরপ্রদেশ থেকে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে SIT। পুলিশের দাবি, একটি টোলপ্লাজায় করা UPI পেমেন্টই খুলে দেয় গোটা হত্যাচক্রের রহস্য। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ধরে তদন্ত এগোতেই সামনে আসে ভিনরাজ্যের শার্প শুটারদের নাম। একই সঙ্গে বিহারের বক্সার থেকে আটক করা হয়েছে কুখ্যাত সুপারি কিলার চন্দন মিশ্রার গ্যাংয়ের সদস্যদেরও। ফলে এই খুনের নেপথ্যে আরও বড় চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েই এখন জোর তদন্ত চলছে।
গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। ব্যস্ত রাস্তায় পরিকল্পিত হামলায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাঁকে ঝাঁঝরা করে পালিয়ে যায় আততায়ীরা। ঘটনার পরই তদন্তে নামে পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা SIT। প্রথম থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল, এই হত্যাকাণ্ডে ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতীরা জড়িত।


তদন্তে উঠে আসে, হামলার আগে দীর্ঘদিন ধরে রেইকি চালানো হয়েছিল। পুলিশের অনুমান, অন্তত আটজনের একটি দল গোটা অপারেশনে যুক্ত ছিল। হামলার দিন একটি গাড়ি চন্দ্রনাথের গাড়ির রাস্তা আটকে দেয়। একই সময়ে একটি মোটরবাইক এসে দাঁড়ায় পাশে। দুই দিক থেকে ঘিরে ধরে চলে এলোপাথাড়ি গুলি।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ঘটনায় ব্যবহৃত একটি নিসান মাইক্রা গাড়ি বালি টোলপ্লাজা পার হয়েছিল। সেখানে নগদের বদলে UPI-তে টোলের টাকা মেটানো হয়। সেই ডিজিটাল লেনদেন থেকেই অভিযুক্তদের মোবাইল নম্বর ও পরিচয় হাতে আসে পুলিশের। এরপরই উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে ছড়িয়ে পড়ে তদন্ত।
পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিশাল শ্রীবাস্তব, যিনি বিহারের বক্সারের বাসিন্দা। তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক নাম— রাজ সিং। তদন্তকারীদের দাবি, তিনিই এই হত্যাকাণ্ডের মূল শার্প শুটার। ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় পালিয়ে যায় রাজ। পরে অযোধ্যা পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


অন্যদিকে, বক্সার থেকে আটক করা হয়েছে মায়াঙ্ক মিশ্রা ও ভিকি মৌর্য নামে আরও দুই সন্দেহভাজনকে। মায়াঙ্কের বিরুদ্ধে কুখ্যাত সুপারি কিলার চন্দন মিশ্রার গ্যাংয়ের সদস্য হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের ইতিমধ্যেই কলকাতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, কার নির্দেশে এই খুন সংগঠিত হয়েছিল। শুধুই সুপারি কিলিং, নাকি এর পিছনে বড় কোনও রাজনৈতিক বা অপরাধচক্র কাজ করেছে— সেই উত্তর খুঁজছে SIT। টোলপ্লাজার CCTV ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেখানে ধরা পড়া গাড়ি ও যাত্রীদের ছবির সঙ্গে ধৃতদের মিলিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।







