ক্ষমতায় এসেই দ্রুত সিদ্ধান্ত—প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি চাকরিতে বয়সে ৫ বছরের ছাড় থেকে শুরু করে আয়ুষ্মান ভারত চালু—মোট ছয়টি বড় সিদ্ধান্তে নতুন সরকারের অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্পষ্ট।
নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন পর রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ও ভয়মুক্ত নির্বাচন হয়েছে। এর জন্য পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানায় নতুন সরকার। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই প্রথম বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ছয়টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে সরকারি চাকরিতে প্রার্থীদের জন্য বয়সসীমায় ৫ বছরের ছাড়। পাশাপাশি, বহু প্রতীক্ষিত আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালুর ঘোষণাও করা হয়েছে, যা আজ থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রথম ক্যাবিনেটেই বড় সিদ্ধান্ত, চাকরিতে ৫ বছরের ছাড়সহ ছয় ঘোষণা শুভেন্দুর

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজি বলেছিলেন, ২০১৫ সালের পর রাজ্যে সরকারি চাকরিতে কোনও নিয়োগ হয়নি। তাই প্রচুর শিক্ষিত যুবক-যুবতীর বয়স চলে গিয়েছে। সে কথা মাথায় রেখে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হল।”
এছাড়াও কেন্দ্রীয় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প—প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, উজালা যোজনা ৩.০, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ এবং বিশ্বকর্মা যোজনাকে রাজ্যে সক্রিয়ভাবে বাস্তবায়নের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে ডিএ, পে কমিশন ও বকেয়া এরিয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সময়ের স্বল্পতার কারণে এই বিষয়গুলি নিয়ে পরবর্তী মন্ত্রিসভায় বিস্তারিত আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রথম দিনেই একাধিক সিদ্ধান্তে নতুন সরকারের কাজের গতি ও অগ্রাধিকার স্পষ্ট—দ্রুত বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক সক্রিয়তাই এখন প্রধান লক্ষ্য।









