বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর নতুন সরকারের প্রথম দিকের মন্ত্রিসভা বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। তারই মাঝে সোমবার সকালে বেলেঘাটার চা-চক্রে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক বার্তা দিলেন দিলীপ ঘোষ। রাজ্যে ‘ভয়ের রাজনীতির অবসান’ হয়েছে দাবি করে তিনি একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন, তেমনই ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতিও ফের শোনালেন। কোন দফতর তাঁর হাতে উঠতে চলেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যখন জোর চর্চা, তখনই দিলীপের মন্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল বঙ্গ রাজনীতিতে।
সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগেই বিজেপি নেতা তথা নবনির্বাচিত বিধায়ক দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন, নতুন সরকার ছোট আকারের মন্ত্রিসভা নিয়েই কাজ শুরু করেছে। তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের টাকা এতদিন রাজ্যে আটকে রাখা হয়েছিল। এবার সেই সমস্ত সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।


দিলীপের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বাংলা পিছিয়ে ছিল রাজনৈতিক কারণে। তিনি বলেন, “এত বছর ধরে মানুষকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। এবার বাংলা ভারতের উন্নয়নের স্রোতে সামিল হবে। রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়, কিন্তু সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে আমরা অটল।”
এদিন সকালে বেলেঘাটার সরকার বাজার এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে চা-চক্রে যোগ দেন দিলীপ ঘোষ। সেখানেই তিনি দাবি করেন, রাজ্যে এখন আর আগের মতো আতঙ্কের পরিবেশ নেই। তাঁর অভিযোগ, অতীতে তোলা আদায় থেকে শুরু করে ফ্ল্যাট দুর্নীতি— নানা অসামাজিক কাজের পেছনে রাজনৈতিক প্রশ্রয় ছিল।
পুলিশ প্রশাসন নিয়েও মন্তব্য করতে শোনা যায় বিজেপি নেতাকে। দিলীপ জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি কটাক্ষ করেন, অতীতে যাঁরা অশান্তি তৈরি করতেন, তাঁদেরই প্রশাসনিক মদত দেওয়া হত।


তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করতেও এদিন কোনও রাখঢাক করেননি দিলীপ ঘোষ। বিরোধী শিবিরের উদ্দেশে কড়া ভাষায় তিনি বলেন, রাজনৈতিক হিংসা ও দুর্নীতির ফলেই আজ অনেক নেতা-কর্মী জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং সেই রায়ের মর্যাদা রেখেই নতুন সরকার কাজ করবে।







