ডাক্তারি পড়ার স্বপ্নে ধাক্কা—NEET 2026 পরীক্ষা ঘিরে ফের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে উত্তাল দেশ। রাজস্থানে একটি ‘গেস পেপার’-এর সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্রের বিপুল অংশ মিলে যাওয়ায় তীব্র সন্দেহ তৈরি হয়েছে, আর সেই সূত্রেই শুরু হয়েছে তদন্ত।
রাজস্থানের শিকর জেলাকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আগে থেকেই ঘুরছিল একটি প্র্যাকটিস বা ‘গেস পেপার’, যা কোচিং সেন্টারগুলির তৈরি বলে জানা গেছে। সাধারণত এই ধরনের প্রশ্নপত্র পরীক্ষার সম্ভাব্য ধরণ বোঝাতে সাহায্য করে। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে, সেই প্রশ্নপত্রের সঙ্গে NEET-এর আসল প্রশ্নপত্রের বড় অংশ হুবহু মিলে গিয়েছে—যা স্বাভাবিক সম্ভাবনার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ৭২০ নম্বরের পরীক্ষায় প্রায় ৬০০ নম্বরের প্রশ্ন ওই গেস পেপারের সঙ্গে মিলে গিয়েছে। শুধু প্রশ্নই নয়, একাধিক ক্ষেত্রে অপশনও একই ছিল বলে অভিযোগ। এতে জোরালো হয়েছে প্রশ্ন—এটি কি নিছক কাকতালীয়, নাকি পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল?
অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। সূত্রের দাবি, পরীক্ষার দুইদিন আগে থেকেই শিকরে এই প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে। ২০ হাজার থেকে শুরু করে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দামে তা বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি পরীক্ষার আগের রাতেও প্রতি কপি ৩০ হাজার টাকায় লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। কেরলের একটি মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরত এক এমবিবিএস ছাত্রের মাধ্যমে এই প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে বলে সন্দেহ। ১ মে ওই ছাত্র তাঁর এক বন্ধুকে প্রশ্নপত্রটি দেয়, সেখান থেকেই তা দ্রুত বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, কাউন্সিলর ও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্নপত্রে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজির ৩০০-রও বেশি হাতে লেখা প্রশ্ন ছিল, যার মধ্যে অন্তত ১৪০টি সরাসরি পরীক্ষায় এসেছে বলে অভিযোগ।


এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-কেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও NEET পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। ২০২৪ সালেও প্রশ্নপত্র ফাঁস, নম্বর কারচুপি ও র্যাঙ্কিং অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয় এবং বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। ফলে এবারও একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে।







