মাধ্যমিক ২০২৬-এ রাজ্যে প্রথম হয়ে এখন চর্চার কেন্দ্রে উত্তর দিনাজপুরের অভিরূপ ভদ্র। ৬৯৮ নম্বর পেয়ে ৯৯.৭১ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে উঠেছে সে। কিন্তু ফলপ্রকাশের উচ্ছ্বাসের মধ্যেও রাজনীতি বা নির্বাচনের আবহ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ অভিরূপ। তার স্পষ্ট কথা, এখন তার একমাত্র লক্ষ্য পড়াশোনা, ভবিষ্যতে IIT-তে ভর্তি হয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া।
উত্তর দিনাজপুর জেলার সারদা বিদ্যামন্দির স্কুলের ছাত্র অভিরূপ ছোটবেলা থেকেই মেধাবী হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত পড়াশোনা, সময় মেনে অনুশীলন এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ— এই তিনকেই নিজের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছে সে। মাধ্যমিক পরীক্ষায় তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৮।


অভিরূপের জীবনের লড়াইও কম নয়। পরিবার বলতে মূলত তার মা ইন্দ্রাণী চৌধুরী ভদ্র। রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্টাফ নার্স হিসেবে কাজ করেন তিনি। একাই ছেলেকে বড় করেছেন। ভাই-বোন না থাকায় ছোট থেকেই অনেকটা একা পথ চলতে শিখেছে অভিরূপ।
ফল প্রকাশের দিনেও অত্যন্ত সংযত ছিল সে। সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিরূপ জানায়, উচ্চ মাধ্যমিকের পর তার লক্ষ্য IIT-তে সুযোগ পাওয়া। সেই লক্ষ্য নিয়েই এখন থেকে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করবে। মাধ্যমিকের সময় তার মোট ন’জন গৃহশিক্ষক ছিলেন। স্কুলের পড়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয়েছে তাকে। তবে আগামী দু’বছর আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে বলেও জানে সে।
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিরূপ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই বিষয়ে মন্তব্য করার মতো অভিজ্ঞতা তার এখনও হয়নি। তার কথায়, “রাজনীতি নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না। এখনও সে বিষয়ে বলার মতো অভিজ্ঞতা হয়নি।”


সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যেখানে অনেক পড়ুয়াই নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে, সেখানে অভিরূপের এই সংযত মনোভাব এবং লক্ষ্যভেদী চিন্তাভাবনাই আলাদা করে নজর কাড়ছে শিক্ষা মহলের একাংশের।







