নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়—এবার সরাসরি এনটিএ-র অন্দরের যোগের ইঙ্গিত দিল সিবিআই। দিল্লির আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সূত্র খুঁজতে গিয়ে তারা এমন প্রমাণ পেয়েছে, যা ইঙ্গিত করছে সংস্থার ভিতর থেকেই তথ্য বাইরে গিয়েছে।
সিবিআইয়ের দাবি অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে গ্রেফতার হওয়া আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক শুভম খৈরনার যে ব্যক্তির কাছ থেকে প্রশ্নপত্র পেয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে এনটিএ-র অভ্যন্তরের কোনও সূত্রের যোগাযোগ থাকতে পারে। এই সম্ভাবনাকেই এখন গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে।


তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। তাই শুধুমাত্র বাইরের অভিযুক্তদের গ্রেফতার করলেই হবে না, এনটিএ-সহ একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা জরুরি। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, তিনটি রাজ্য থেকে পাঁচ অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে সিবিআই। পাশাপাশি পুণে থেকে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে এক জন মহিলা রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল তথ্য, মোবাইল ফোন এবং কথোপকথনের প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে সিবিআইয়ের একটি দল দিল্লিতে এনটিএ-র সদর দফতরেও যায় এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে। সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই মামলায় বহু নতুন সূত্র মিলছে এবং আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন রয়েছে।


উল্লেখ্য, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষার কয়েক দিনের মধ্যেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের পর ১২ মে পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়। ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, আগামী ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সিবিআইয়ের তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর গোটা দেশের।







