ভোটে ধাক্কার পর তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষের গুঞ্জন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। তার মধ্যেই বিস্ফোরক দাবি করলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের একাধিক সাংসদ, বিধায়ক এমনকি পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধিরাও আইএসএফে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। নওশাদের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।
শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নওশাদ বলেন, “একাধিক তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ও বিধায়ক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। অনেক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সদস্যও আইএসএফে আসতে চাইছেন। তবে কাকে নেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত দল নেবে। আমি একা সিদ্ধান্ত নিই না।”


যদিও তিনি কোনও নেতার নাম প্রকাশ করেননি, তবু তাঁর এই মন্তব্যে তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তি আরও বেড়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই একাধিক তৃণমূল নেতা ও মুখপাত্রের দলবিরোধী মন্তব্য সামনে এসেছে। কেউ আইপ্যাককে দায়ী করছেন, কেউ আবার নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সেই আবহে নওশাদের দাবি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিন বিধানসভায় বিরোধী রাজনীতির ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন নওশাদ। তিনি বলেন, “বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করব না। গঠনমূলক প্রস্তাব রাখব। মানুষ জানতে চান, আমরা কী কাজ করছি। তাই বিধানসভার লাইভ সম্প্রচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিরোধীদের চিঠির উত্তর অনেক সময়ই সরকার দিত না। তবে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে ইতিবাচক বলেও উল্লেখ করেন আইএসএফ বিধায়ক।


এদিন বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বহুদলীয় গণতন্ত্রের গুরুত্বের কথা বলেন। বিরোধীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “সংবিধান ও বিধানসভার নিয়ম মেনেই আমরা এগোব। বিধায়কদের উপস্থিতি ও পারফরম্যান্স এখন সরাসরি মানুষ দেখতে পাচ্ছেন।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নওশাদের মন্তব্য আপাতত শুধু রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল, নাকি সত্যিই তৃণমূলের ভাঙনের ইঙ্গিত— তা সময়ই বলবে। তবে এই মন্তব্য যে তৃণমূল শিবিরে নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।







