মিষ্টি বলেই অনেক ডায়াবিটিস রোগী খেজুর খেতে ভয় পান। কিন্তু সত্যিই কি খেজুর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ? পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক নিয়ম মেনে এবং পরিমাণ বুঝে খেলে খেজুর ডায়াবিটিস রোগীদের জন্যও উপকারী হতে পারে। বরং এতে থাকা ফাইবার, আয়রন, পটাশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরকে নানা ভাবে উপকার করে। সমস্যা হয় তখনই, যখন খেজুর খাওয়ার নিয়ম মানা হয় না।
খেজুরে প্রাকৃতিকভাবে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকলেও তা প্রক্রিয়াজাত চিনির মতো ক্ষতিকর নয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথের একটি গবেষণাতেও উল্লেখ করা হয়েছে, খেজুরের ধরন ও খাওয়ার পরিমাণ অনুযায়ী রক্তে শর্করার প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। তাই ডায়াবিটিস থাকলেও সম্পূর্ণ খেজুর ছাড়তে হবে— এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।


খেজুরের সঙ্গে রাখুন প্রোটিন বা হেলদি ফ্যাট
শুধু খেজুর খেলেই রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে। তাই এর সঙ্গে আমন্ড, আখরোট বা অন্যান্য বাদাম খাওয়া ভালো। প্রোটিন ও হেলদি ফ্যাট গ্লুকোজ শোষণের গতি কমায়, ফলে সুগার লেভেল হঠাৎ বাড়ে না। একইসঙ্গে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরেও থাকে।
খাওয়ার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ
যখন-তখন খেজুর খাওয়ার বদলে নির্দিষ্ট সময় বেছে নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরচর্চার আগে বা পরে খেজুর খাওয়া সবচেয়ে ভালো। ব্যায়ামের সময় শরীর ইনসুলিনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল থাকে। ফলে খেজুর থেকে পাওয়া গ্লুকোজ শক্তি হিসেবে ব্যবহার হয়, রক্তে জমে থাকে না। শরীরচর্চার ৩০ মিনিট আগে বা পরে ২-৩টি খেজুর খাওয়া যেতে পারে।
ফাইবারের সঙ্গে খেলে কমে ঝুঁকি
ওটস, টক দই বা চিয়া পুডিংয়ের সঙ্গে খেজুর মিশিয়ে খেলে রক্তে শর্করার উপর প্রভাব অনেকটাই কম হয়। ফাইবার গ্লুকোজ শোষণের গতি ধীর করে দেয়। ফলে সুগার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।


সবচেয়ে জরুরি ‘পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ’
খেজুর অত্যন্ত পুষ্টিকর হলেও এতে ক্যালোরি ও প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ যথেষ্ট বেশি। তাই অতিরিক্ত খেলে সমস্যা বাড়তে পারে। ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য দিনে ১-২টির বেশি খেজুর না খাওয়াই নিরাপদ বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
অর্থাৎ, ডায়াবিটিস থাকলেই খেজুর সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে— এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। বরং সঠিক সময়, সঠিক পরিমাণ এবং সঠিক খাবারের সঙ্গে খেলে খেজুর হতে পারে স্বাস্থ্যকর ডায়েটেরই অংশ।







