আবার ফিরছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’? কেন এই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী, লাভ কী হবে

জ্বালানি সাশ্রয়ে ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, বিদেশ ভ্রমণ কমানো ও সোনা না কেনার পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

করোনাকালের স্মৃতি কি ফের ফিরে আসতে চলেছে? আবার কি বাড়ি থেকে বসেই অফিসের কাজ করবেন বহু কর্মী? পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কার মাঝেই দেশবাসীর উদ্দেশে এমনই ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য প্রয়োজন হলে ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, অনলাইন মিটিং এবং ভার্চুয়াল কনফারেন্সে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, বিদেশ ভ্রমণ, বিলাসবহুল অনুষ্ঠান এমনকি সোনা কেনা থেকেও আপাতত বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রবিবার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, দেশের প্রতি দায়িত্ব শুধু সীমান্তে সেনাদের নয়, সাধারণ মানুষের আচরণেও তা প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তাঁর কথায়, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে কেন্দ্র।

প্রধানমন্ত্রীর দাবি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামাল দিতে প্রতিদিন প্রায় ১৬০০ থেকে ১৭০০ কোটি টাকা খরচ করছে সরকার। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানোর জন্য দেশবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

মোদীর পরামর্শ, যতটা সম্ভব ট্রেন, মেট্রো, বাসের মতো গণপরিবহন ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি কার-পুলিং বাড়ানো এবং পণ্য পরিবহণে রেলপথের ব্যবহারেও জোর দিয়েছেন তিনি। বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এতে আমদানি করা জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমবে।

সবচেয়ে বেশি চর্চায় এসেছে তাঁর ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ মন্তব্য। করোনাকালের উদাহরণ টেনে মোদী বলেন, প্রয়োজন হলে ফের বাড়ি থেকে কাজ, অনলাইন বৈঠক ও ভার্চুয়াল কনফারেন্সের ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে। এতে যেমন যাতায়াত কমবে, তেমনই জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি খরচও কমবে।

শুধু অফিস যাতায়াত নয়, বিদেশ সফর নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই বছর বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে দেশের মধ্যেই পর্যটনে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর যুক্তি, বিদেশ সফরে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়। সেই অর্থ দেশের মধ্যেই খরচ হলে স্থানীয় ব্যবসা, হোটেল, পরিবহণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতি উপকৃত হবে।

একইসঙ্গে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং বা বিলাসবহুল অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও সংযমের বার্তা দিয়েছেন মোদী। পাশাপাশি আগামী এক বছর খুব প্রয়োজন না হলে সোনা না কেনারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। কারণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সোনা আমদানির জন্যও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ সপ্তাহে তেল ও সোনা আমদানির জন্য প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, যদি দেশবাসী মাত্র ১০ শতাংশ জ্বালানির ব্যবহার কমান, তাহলে প্রতিদিন প্রায় ১৬০ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব।

এছাড়াও ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানো এবং ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্য ব্যবহারের উপর জোর দিয়েছেন মোদী। তাঁর মতে, স্থানীয় পণ্য কিনলে ছোট ব্যবসায়ী ও দেশীয় শিল্প উপকৃত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন