ইমপিচমেন্টের মুখে ট্রাম্প? ইতিহাসে কত জন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে হয়েছে এই পদক্ষেপ

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট নিয়ে আলোচনা। অ্যান্ড্রু জনসন থেকে বিল ক্লিন্টন, ডোনাল্ড ট্রাম্প—আমেরিকার ইতিহাসে প্রেসিডেন্টদের বিরুদ্ধে কী ঘটেছিল?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm Elections 2026) বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদ (House of Representatives) এবং সেনেট (Senate)—কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বিরোধী দল। এই ফলের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরলেই যে ট্রাম্পকে পদ থেকে সরানো যাবে, এমন নয়। মার্কিন সংবিধানে প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ ও পদ থেকে অপসারণের জন্য রয়েছে আলাদা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।

২০২৬ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। প্রশাসনের কাজকর্ম খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ইমপিচমেন্টের পথও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। এর আগে ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পকে ইমপিচ করার দাবিতে প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব জমা পড়েছিল। তবে প্রস্তাব জমা পড়া আর প্রতিনিধি পরিষদে ইমপিচমেন্ট অনুমোদিত হওয়া এক বিষয় নয়।

- Advertisement -

আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করার ঘটনা বিরল নয়, তবে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রেসিডেন্টকে এই প্রক্রিয়ায় পদ থেকে সরানো যায়নি। মার্কিন কংগ্রেসের সরকারি নথি অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত তিন জন প্রেসিডেন্ট ইমপিচ হয়েছেন। তাঁরা হলেন অ্যান্ড্রু জনসন (Andrew Johnson), বিল ক্লিন্টন (Bill Clinton) এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইতিহাসে প্রথম ইমপিচমেন্ট: অ্যান্ড্রু জনসন

১৮৬৮ সালে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসনের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়। গৃহযুদ্ধের পর দক্ষিণের রাজ্যগুলির পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক নিয়োগ নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সংঘাত চরমে পৌঁছেছিল। যুদ্ধমন্ত্রী এডউইন স্ট্যান্টনকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। প্রতিনিধি পরিষদে ইমপিচমেন্ট অনুমোদিত হলেও সেনেটে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পাননি বিরোধীরা। ফলে জনসন পদে থেকে যান।

বিল ক্লিন্টন: ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয় ঘটনা

- Advertisement -

১৯৯৮ সালে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের বিরুদ্ধে শপথ নিয়ে মিথ্যা বলা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইমপিচমেন্ট হয়। মনিকা লিউইনস্কি বিতর্কের সূত্র ধরেই এই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছিল। তবে সেনেটে বিচারের পর ক্লিন্টন অভিযোগ থেকে মুক্তি পান। তাঁকেও প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়তে হয়নি।

ট্রাম্প: একই প্রেসিডেন্সিতে দু’বার ইমপিচমেন্ট

আমেরিকার ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যিনি দু’বার ইমপিচ হয়েছেন। ২০১৯ সালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথোপকথন এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়টি সামনে রেখে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার পর দ্বিতীয়বার ইমপিচ হন ট্রাম্প। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই সেনেটে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি।

রিচার্ড নিক্সন কেন এই তালিকায় নেই?

আমেরিকার আর এক প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন (Richard Nixon)-এর নামও প্রায়ই এই প্রসঙ্গে উঠে আসে। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির জেরে ১৯৭৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া এগিয়েছিল। কিন্তু প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত ইমপিচমেন্ট ভোট হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে ইমপিচ হওয়া প্রেসিডেন্টদের তালিকায় তাঁর নাম নেই।

কীভাবে ইমপিচ করা হয় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে?

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষমতা রয়েছে প্রতিনিধি পরিষদের হাতে। সেখানে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব পাশ হলে বিষয়টি যায় সেনেটে। সেনেটে বিচারপর্বের পর উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হয় প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরানোর জন্য।

অর্থাৎ, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে। কিন্তু তাঁকে সরাতে সেনেটেও প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর