সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটানোর সময়সীমা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সরকার পোষিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং বিভিন্ন বোর্ড-কর্পোরেশনের গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বকেয়া ডিএ কবে মিলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই কর্মীদের বকেয়া নিয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মালহোত্রা কমিটির কলকাতা সফর।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র মোট ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৮ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪ হাজার কোটি টাকা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মেটানো হবে। তবে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের ক্ষেত্রে একই সময়সীমা ঘোষণা করেননি তিনি।
নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এই কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্য মালহোত্রা কমিটির সুপারিশ মেনেই পদক্ষেপ করবে। আগের সরকারের নির্দেশের পরিবর্তে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং আদালত নিযুক্ত কমিটির সিদ্ধান্তকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে ডিসেম্বরেই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। ১৪ ডিসেম্বর কলকাতায় আসার কথা সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা (Justice Indu Malhotra)-র নেতৃত্বাধীন কমিটির সদস্যদের। ওই দিন বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র বিষয়টিও উঠতে পারে।
তবে ডিসেম্বরেই বকেয়া টাকা হাতে আসবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা এখনও মেলেনি। কমিটির বৈঠকে তাঁদের দাবির বিষয়ে কী আলোচনা হয় এবং পরবর্তী আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হয়, তার উপরই নির্ভর করছে এই কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র ভবিষ্যৎ।
৪ নভেম্বর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৮ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪ হাজার কোটি টাকা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। কিন্তু এই সময়সীমা গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের জন্য ঘোষণা করা হয়নি। তাঁদের ক্ষেত্রে মালহোত্রা কমিটির সুপারিশ মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন সরকার পোষিত ও অনুমোদিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধিবদ্ধ বোর্ড, কর্পোরেশন এবং বিভিন্ন সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তরা। তাঁদের বকেয়া ডিএ-র বিষয়টি সরকারি দফতরের কর্মীদের বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়ার সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও পেনশনভোগীদের বেতন এবং পেনশনের হিসাব আলাদা ভাবে যাচাই করতে হয়।
রাজ্য সরকারের অর্থ দফতর ১৩ মার্চ ২০২৬-এ একটি নির্দেশিকা জারি করে ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ/ডিআর-এর হিসাব তৈরির কথা জানিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরগুলিকে কর্মীভিত্তিক বেতন, ভাতা ও পেনশনের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সেই নির্দেশিকা জারি হওয়া মানেই বকেয়া অর্থ দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা নয়।
মালহোত্রা কমিটির রিপোর্টে কেন উদ্বেগ?
সংশ্লিষ্ট কর্মচারী সংগঠনগুলির অভিযোগ, মালহোত্রা কমিটির সাম্প্রতিক রিপোর্টে গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া ডিএ-র বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ নেই। ফলে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বকেয়া ডিএ পাওয়ার প্রক্রিয়ার আওতায় কী ভাবে আসবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কর্মচারী সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা ডিসেম্বরের বৈঠকে বিষয়টি তোলার পরিকল্পনা করছেন।
অর্থাৎ, গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের জন্য ডিসেম্বর মাসটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ১৪ ডিসেম্বরের বৈঠকে তাঁদের বকেয়া ডিএ নিয়ে আলোচনা হলে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলতে পারে। কিন্তু টাকা দেওয়ার নির্দিষ্ট দিন বা কিস্তির পরিমাণ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।



