জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, আসন্ন উপনির্বাচনে মমতা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কোনও গোষ্ঠীই আপাতত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুক্রবার তৃণমূলকে নিশানা করেন শমীক।
কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি নেতার বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে তিনি ‘উপরওয়ালার বিচার’ হিসেবে দেখছেন। তৃণমূলের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, একসময় উত্তর ২৪ পরগনা ও বারাকপুর এলাকায় সিঁদুর, আলতা কিংবা পদ্মফুলের ছবি বিক্রি করা নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছিল।
সেখান থেকেই তৃণমূলের প্রতীক হারানোর প্রসঙ্গ টেনে শমীক বলেন, জোড়াফুল প্রতীক থাকল কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের বিশেষ কিছু যায় আসে না। এরপরই তিনি আরও কড়া ভাষায় দাবি করেন, “তৃণমূল বলে কোনও পার্টি নেই। তৃণমূল মৃত। তৃণমূল নির্মূল।” এটি শমীকের রাজনৈতিক বক্তব্য; নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা নয়।
এ দিকে কমিশনের নির্দেশের জেরে উপনির্বাচনের আগে কার্যত নতুন নির্বাচনী পরিচয় তৈরি করতে হচ্ছে দুই তৃণমূল শিবিরকেই। ১৭ সেপ্টেম্বরের অন্তর্বর্তী নির্দেশে কমিশন দুই পক্ষকে তিনটি করে সম্ভাব্য দলের নাম এবং তিনটি করে মুক্ত প্রতীকের পছন্দ জানাতে বলেছিল। শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে সেই তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কমিশনের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিকল্প নাম ও প্রতীকের পছন্দ জমা দিয়েছে বলে খবর। কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত উপনির্বাচনের প্রক্রিয়া যাতে আটকে না যায়, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
অন্য দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও নিজেদের পছন্দের নাম ও প্রতীকের তালিকা কমিশনের কাছে পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্টে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস’-এর মতো নামের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তবে কোন নাম ও প্রতীক শেষ পর্যন্ত বরাদ্দ হবে, তা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।
প্রতীকের ক্ষেত্রেও একাধিক বিকল্প সামনে এসেছে। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঋতব্রত শিবির ‘খাম’, ‘ব্ল্যাকবোর্ড’ ও ‘টর্চ’-এর মতো প্রতীক পছন্দ হিসেবে জানিয়েছে। তবে কোনও প্রতীকই এখনও তাদের চূড়ান্ত নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কমিশন দুই পক্ষের জমা দেওয়া পছন্দের তালিকা খতিয়ে দেখে প্রতীক বরাদ্দ করবে।
এই পর্বে আরও একটি বিষয় রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের বর্তমান সিদ্ধান্তটি চূড়ান্তভাবে কার হাতে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক থাকবে, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি নয়। আপাতত আসন্ন উপনির্বাচনের স্বার্থে দুই গোষ্ঠীকে পৃথক নাম ও প্রতীকে লড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পরবর্তী প্রক্রিয়ায় হবে।
অর্থাৎ জোড়াফুল নিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। একদিকে কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে দুই শিবিরের নতুন নাম ও প্রতীকের সন্ধান—এই আবহেই বিজেপির শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে তাঁর ‘তৃণমূল মৃত, তৃণমূল নির্মূল’ মন্তব্যটি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই দেখা উচিত; দলের ভবিষ্যৎ বা নির্বাচনী ফলাফল সম্পর্কে এটি কোনও প্রামাণ্য সিদ্ধান্ত নয়।



