পুরভোটে বিজেপির আসল প্রতিদ্বন্দ্বী কে? বাম ‘নস্টালজিয়া’ নাকি তৃণমূল, স্পষ্ট করলেন দিলীপ ঘোষ

পুরভোটের আগে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও বামেদের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী কে হবে, তা নিয়ে দিলীপ ঘোষ ও শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য সামনে এল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পুজো শেষ হলেই রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি আরও গতি পেতে পারে। শাসক শিবিরে ইতিমধ্যেই একাধিক বৈঠক শুরু হলেও বিরোধী শিবিরের সমীকরণ এখনও বেশ জটিল। তৃণমূল তিনটি অংশে বিভক্ত হওয়ার পর কলকাতা-সহ পুরভোটে বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে হবে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। এই পরিস্থিতিতে বামেদের ‘নস্টালজিয়া’ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা এবং তৃণমূলের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

সামনে পুরভোট। একসময় কলকাতা পুরসভা ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি। মেয়র হিসেবে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya)-র সময় কলকাতা পুরসভায় বামেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। পরবর্তী সময়ে সেই জায়গা দখল করে তৃণমূল। শোভন চট্টোপাধ্যায় (Sovan Chatterjee), ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)-দের হাত ধরে কলকাতা পুরসভায় বদলে যায় রাজনৈতিক সমীকরণ।

বর্তমানে অবশ্য সেই সমীকরণও বদলেছে। তৃণমূলের অন্দরে বিভাজনের জেরে একাধিক রাজনৈতিক শিবির তৈরি হয়েছে। কালীঘাটের তৃণমূলের তরফে পুরভোট নিয়ে এখনও বড় কোনও সাংগঠনিক তৎপরতা সামনে আসেনি। অন্যদিকে, নব তৃণমূলের দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে এখনও জটিলতা রয়েছে। ফলে প্রার্থী বাছাই থেকে ভোটের প্রস্তুতি—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

এই পরিস্থিতিতে বিজেপির সামনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন, পুরভোটে শেষ পর্যন্ত প্রধান রাজনৈতিক লড়াই কার সঙ্গে হবে? বাম-কংগ্রেস জোট? নাকি তৃণমূলের কোনও অংশ? খড়্গপুরের বোগদা স্টেশন এলাকায় চা-চক্রে যোগ দিয়ে সেই প্রশ্নেরই জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেন দিলীপ ঘোষ।

তাঁর বক্তব্য, বিজেপি কাকে প্রধান বিরোধী হিসেবে বেছে নেবে, তা দলের কোনও নির্দিষ্ট নিয়মে ঠিক হয় না। দিলীপের কথায়, বিধানসভা বা লোকসভায় সংখ্যার ভিত্তিতে স্পিকার বিরোধী দলের মর্যাদা নির্ধারণ করেন। কিন্তু পুরসভার মতো নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত মানুষই ঠিক করেন, কে তাঁদের কাছে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী।

তৃণমূলের বিভাজনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম, কোনও রাজনৈতিক দল যদি নিজেদের মধ্যে এক জায়গায় থাকতে না পারে, তাহলে নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষই অন্য কাউকে বেছে নিতে পারেন। অর্থাৎ উপর থেকে কাউকে বিরোধী বা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্ধারণ করার সুযোগ নেই।

এদিকে পুরভোটের প্রস্তুতিতে বিজেপিও যে বসে নেই, তার ইঙ্গিত মিলেছে রবিবারের বৈঠকে। বিধায়ক সজল ঘোষের বাড়িতে সকালে ব্রেকফাস্ট বৈঠকে বসেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya), তাপস রায় (Tapas Roy), তমোঘ্ন ঘোষ-সহ দলের একাধিক নেতা। বৈঠকে পুরভোটের সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কাকে দেখা হচ্ছে, সেই প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় যারা মানুষের বিচারে উঠে আসতে পারবে, তারাই বিজেপির প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী হবে।

ফলে আপাতত বামেদের ‘নস্টালজিয়া’ কিংবা তৃণমূলের কোনও একটি অংশকে আগেভাগে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইছে না বিজেপি। পুরভোটের ময়দানে শেষ পর্যন্ত মানুষের রায়েই সেই হিসাব স্পষ্ট হবে—এমনটাই বার্তা দিলেন দিলীপ ঘোষ ও শমীক ভট্টাচার্য।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন