জিডিপি নিয়ে বিতর্কে বিরোধীদের নিশানা মোদির, এবার ‘নারাজ ফুফা’ বলে কটাক্ষ

জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন ও ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তন সংক্রান্ত বিতর্কের মধ্যেই সরকারের আর্থিক নীতির পক্ষে সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। কেন্দ্রের প্রকাশিত ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন এবং পরিসংখ্যানে কারচুপির অভিযোগ উড়িয়ে শনিবার দিল্লিতে মোদি বলেন, ‘মিথ্যার গুঞ্জন কখনও সত্যের গর্জনের কাছে টিকতে পারে না।’ সমালোচকদের একাংশকে ‘দিমাগি নকশাল’ এবং ‘নারাজ ফুফা’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

দিল্লির শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্সের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই দেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ২০১৩ সালের তুলনা টেনে তিনি বিরোধীদের নিশানা করেন। মোদির বক্তব্য, যাঁরা একসময় ভারতকে ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’-এর তালিকায় দেখেছিলেন, তাঁরাই এখন দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পরিসংখ্যান মেনে নিতে পারছেন না।

জিডিপি হিসাবের পদ্ধতি নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন উঠেছে। প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ দাবি করেছেন, সরকার যে আর্থিক বৃদ্ধির হার প্রকাশ করছে, তা বাস্তব পরিস্থিতির সম্পূর্ণ প্রতিফলন নয়। তাঁর অভিযোগ, জিডিপি হিসাবের ভিত্তিবর্ষ বদলানোর ফলে পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এই বিতর্কের মধ্যেই সরকারের আর্থিক নীতির পক্ষে সওয়াল করেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদির কথায়, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অস্থিরতার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে। ২০১৩ সালের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেই সময়ে টাকার দাম দ্রুত কমছিল, মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছেছিল, কারেন্ট অ্যাকাউন্টে ঘাটতি ছিল এবং আর্থিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। দুর্নীতির অভিযোগও সেই সময় দেশকে চাপে রেখেছিল বলে দাবি করেন তিনি।

সেই সময় আন্তর্জাতিক মহলে ভারতকে ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’-এর অন্যতম দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে বর্তমানে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলির মধ্যে রয়েছে।

নিজের পুরনো ‘অর্ধেক ভর্তি গ্লাস’-এর উদাহরণও ফের টেনে আনেন মোদি। তাঁর বক্তব্য, কেউ একই গ্লাসকে অর্ধেক ভর্তি দেখেন, কেউ অর্ধেক খালি। তিনি অবশ্য বলেছিলেন, গ্লাসটি পুরোপুরি ভর্তি—অর্ধেক জলে এবং অর্ধেক হাওয়ায়। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ২০১৩ সালে যাঁরা দেশের পরিস্থিতিকে নেতিবাচক চোখে দেখেছিলেন, আজও তাঁরা একই দৃষ্টিভঙ্গি ধরে রেখেছেন।

শনিবারের বক্তব্যকে নিজের সরকারের ‘রিপোর্ট কার্ড’-এর সঙ্গে যুক্ত করে মোদি বলেন, মিথ্যার গুঞ্জন সত্যের গর্জনের সামনে টিকতে পারে না। দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, গত ১২ বছরে ৬০ কোটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের দরিদ্র মানুষ আরও বেশি করে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার আওতায় এসেছেন।

মোদির অভিযোগ, একসময় এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল যেখানে সাধারণ মানুষকে মৌলিক পরিষেবা পাওয়ার জন্য ‘মাই-বাপ’ সংস্কৃতির উপর নির্ভর করতে হত। তাঁর বক্তব্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সেই নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

দেশের উৎপাদন ও রফতানি নিয়েও বিরোধীদের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’-র সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে মোবাইল ফোন শিল্পের কথা তুলে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ভারত বিপুল পরিমাণে মোবাইল আমদানি করত। বর্তমানে দেশ থেকে ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার বেশি মূল্যের মোবাইল রফতানি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এরপরই সমালোচকদের দু’টি ভাগে ভাগ করে আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, একদল ‘দিমাগি নকশাল’, অন্য দল ‘নারাজ ফুফা’। ইউপিআই, বুলেট ট্রেন, স্ট্যাচু অফ ইউনিটি এবং নতুন সংসদ ভবনের মতো বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ নিয়েও এই সমালোচকরা প্রশ্ন তোলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কোভিড-১৯, যুদ্ধ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটের সময় ভারত দুর্বল হয়ে পড়বে বলে যাঁরা আশা করেছিলেন, তাঁদেরও নিশানা করেন মোদি। তাঁর দাবি, একের পর এক আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি ও উন্নয়নের গতি থামেনি। জিডিপি-র পরিসংখ্যান নিয়ে বিতর্কের মাঝেই তাই সরকারের আর্থিক নীতির পক্ষে এই বার্তাই তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর