যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) ফের ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক। কলা বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষাকর্মী অশালীন আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনোলজি ভবনের সাততলায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই হস্তক্ষেপ করেছেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটিকে (Internal Complaints Committee বা ICC)। তদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষাকর্মীকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। যদিও অভিযোগকারী ছাত্রী এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনোলজি ভবনের সাততলায় সিঁড়ির কাছে বসে গল্প করছিলেন কলা বিভাগের প্রথম বর্ষের তিন ছাত্রী। অভিযোগ, সেই সময় এক শিক্ষাকর্মী তাঁদের সেখান থেকে নীচে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন। দুই ছাত্রী নির্দেশ মেনে নীচে চলে গেলেও তৃতীয় ছাত্রীটি সাততলাতেই থেকে যান।
এরপর ওই ছাত্রীকে নীচে নামানোর জন্য সাততলায় যান সংশ্লিষ্ট শিক্ষাকর্মী। ছাত্রীর অভিযোগ, সেখানে তাঁকে একা পেয়ে ওই শিক্ষাকর্মী তাঁর হাত ধরে টানেন এবং কোমর জড়িয়ে ধরেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কোনওক্রমে সেখান থেকে বেরিয়ে নীচে চলে আসেন ছাত্রী। পরে সহপাঠীদের কাছে গোটা ঘটনার কথা জানান তিনি।
ছাত্রীর কাছ থেকে অভিযোগ শোনার পরেই প্রতিবাদে সরব হন পড়ুয়াদের একাংশ। অভিযুক্ত শিক্ষাকর্মীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি পৌঁছয়। এরপরই উপাচার্য তদন্তের নির্দেশ দেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাকর্মী। তাঁর দাবি, টেকনোলজি ভবনের সাততলায় এর আগে ক্লাসরুম থেকে ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সেই কারণে অনুমতি ছাড়া পড়ুয়াদের ওই এলাকায় যাতায়াত করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, তিন ছাত্রীকে সেখানে বসে থাকতে দেখে শুধুমাত্র সতর্ক করতেই তিনি সাততলায় গিয়েছিলেন। শ্লীলতাহানির মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি বলেই দাবি তাঁর। ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে হেনস্তা করা হচ্ছে বলেও পাল্টা অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষাকর্মী।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবেন না অভিযুক্ত
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিষয়টিকে হালকাভাবে নিতে নারাজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির কাছে পাঠানো হচ্ছে। কমিটি ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দেবে।
উপাচার্যের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না। অভিযোগকারী ছাত্রী এখনও পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের না করলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসে যৌন হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। নতুন করে এই অভিযোগ সামনে আসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।



