মাওবাদ নির্মূলের পরেও থামছে না অভিযান! বস্তার থেকে হিংসার শেষ চিহ্ন মুছতে চান অমিত শাহ

‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অনুষ্ঠানে বস্তারের নকশাল হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উন্নয়ন ও আদিবাসী সংস্কৃতির বিকাশেও জোর দিয়েছেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দেশ থেকে মাওবাদী হিংসা নির্মূলের দাবি করে এবার তার অবশিষ্ট প্রভাবও মুছে ফেলার বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার, ছত্তিশগড়ের নকশাল হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সহায়ক সরঞ্জাম বিতরণের একটি অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, শুধু নকশালবাদ দমন করলেই হবে না, দীর্ঘদিনের হিংসার ক্ষত সারিয়ে বস্তারকে শান্তিপূর্ণ ও প্রাণবন্ত অঞ্চলে পরিণত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসক হিসেবে ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে অমিত শাহ নকশাল হিংসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং আদিবাসী অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার উপর জোর দেন।

অমিত শাহের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, মাওবাদী হিংসা বন্ধ করার পাশাপাশি তার শিকার মানুষদের পুনর্বাসনের উপর জোর দেওয়া। তাঁর কথায়, পাঁচ দশকের নকশালবাদ বস্তারের দরিদ্র আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। সেই ক্ষত দ্রুত মুছে ফেলা সম্ভব নয়। ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং তাঁদের সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি করাও সরকারের দায়িত্ব।

আইইডি বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিরীহ সাধারণ মানুষ ও আদিবাসীদের পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনাকে মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর আওতায় ছত্তিশগড়ে নকশাল হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সহায়ক সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের লক্ষ্য তাঁদের দৈনন্দিন জীবন সহজ করা এবং পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানো।

বস্তারকে নতুন করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ছত্তিশগড় সরকারের একাধিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘নিয়াদ নেল্লানার’ প্রকল্প, ‘বস্তার অলিম্পিক’ এবং ‘বস্তার পাণ্ডুম’-এর মতো কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

অমিত শাহের বক্তব্য, যে অঞ্চলে একসময় গুলির শব্দ ও বোমা বিস্ফোরণের আতঙ্ক ছিল, সেখানে এখন আদিবাসী যুবক-যুবতীরা খেলাধুলো এবং নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চর্চায় অংশ নিচ্ছেন। তাঁর মতে, বস্তারকে শান্তিপূর্ণ, প্রাণবন্ত ও উন্নত অঞ্চলে পরিণত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

মাওবাদী হিংসা নির্মূল করতে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তার আগে ছত্তিশগড়-সহ মাওবাদী প্রভাবিত এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা অভিযান জোরদার করা হয়। ৩০ মার্চ লোকসভায় অমিত শাহ দাবি করেছিলেন, বস্তারে মাওবাদী কার্যকলাপ প্রায় নির্মূল হয়ে গিয়েছে। পরে ১৯ মে তিনি ভারতকে নকশালমুক্ত বলে ঘোষণা করেন।

১৫ অক্টোবরের বক্তব্যে তিনি সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানান, হিংসা নির্মূলের পাশাপাশি তার প্রতিটি অবশিষ্ট চিহ্ন মুছে ফেলার কাজও জরুরি। তবে এই বক্তব্য কেন্দ্রীয় সরকারের মূল্যায়ন ও লক্ষ্যকে তুলে ধরে; দেশের প্রতিটি এলাকায় মাওবাদী সংগঠনের উপস্থিতি সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে কি না, তা নির্ধারণে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বস্তারের ক্ষেত্রে এখন নিরাপত্তা অভিযান, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং আদিবাসী অঞ্চলে উন্নয়ন—এই তিনটি বিষয়ই কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisementspot_img

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর