অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর তনুশ্রী দত্তের একের পর এক মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের মধ্যে এবার মুখ খুললেন তাঁর ছেলে মালহার পাটেকর। কারও নাম সরাসরি না করেই মালহার বলেছেন, তাঁর বাবাকে ঘিরে যে পুরনো মামলা নিয়ে বারবার আলোচনা হচ্ছে, তার আইনি নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে সমালোচকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “যা সত্যি, সেটাই থাকবে। ভগবান ওঁদের মঙ্গল করুন।”
৮ অক্টোবর নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর থেকেই পুরনো #MeToo বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০০৯ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির শুটিংয়ে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন তনুশ্রী। নানা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। এবার অভিনেতার মৃত্যুর পর শেষকৃত্য ও তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে তনুশ্রীর প্রশ্ন ঘিরেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মালহার পাটেকরের বক্তব্য, তাঁর বাবাকে ঘিরে যে পুরনো অভিযোগের প্রসঙ্গ বারবার সামনে আনা হচ্ছে, সেই মামলার আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে ফের আলোচনা কেন হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তবে কাউকে সরাসরি আক্রমণ না করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মঙ্গল কামনা করেছেন নানার ছেলে।
তনুশ্রীর নাম উল্লেখ না করেই মালহার বলেন, সত্য যা, তা থেকেই যাবে। তাঁর এই মন্তব্যকে নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর অভিনেত্রীকে ঘিরে চলা বিতর্কের প্রেক্ষিতেই দেখা হচ্ছে। তবে মালহারের বক্তব্যের অর্থ নিয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা না করে তাঁর সরাসরি মন্তব্যকেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর অভিনেতার শেষকৃত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তনুশ্রী দত্ত। তাঁর বক্তব্য, কেন কোনও প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়নি এবং কেন চলচ্চিত্র জগতের সদস্য ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাননি, তা স্পষ্ট নয়।
এমনকী, নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, অভিনেতার দেহ নিয়ে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করার কথাও বলেছেন তিনি। তবে তনুশ্রীর এই সন্দেহের পক্ষে কোনও যাচাই করা প্রমাণ সামনে এসেছে বলে উল্লেখ নেই। তাই তাঁর বক্তব্যকে অভিযোগ ও প্রশ্ন হিসেবেই দেখা উচিত, প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নয়।
প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নানা পাটেকরের মৃত্যু হয়েছিল ৮ অক্টোবর গোয়ায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর। তাঁর ছেলে মালহার শেষকৃত্য দেরি করে আয়োজন করার কারণও ব্যাখ্যা করেছিলেন।
২০১৮ সালে #MeToo আন্দোলনের সময় তনুশ্রী দত্ত অভিযোগ করেছিলেন, ২০০৯ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির শুটিংয়ে নানা পাটেকর তাঁর সঙ্গে অনভিপ্রেত আচরণ করেছিলেন। নানা পাটেকর সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত সামনে আসে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবের কথা উল্লেখ করে পুলিশ মামলাটি বন্ধ করার রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। পরে ২০২৫ সালে মুম্বইয়ের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে আইনি সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে ফৌজদারি কার্যক্রম খারিজ করে। এই দুই পর্যায়কে আলাদা করে দেখা জরুরি: পুলিশি ক্লোজার রিপোর্ট এবং আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়।
নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর তনুশ্রী ফের পুরনো অভিজ্ঞতা ও অভিযোগের কথা সামনে এনেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির মৃত্যু অতীতে ঘটে যাওয়া বলে তাঁর দাবি করা অন্যায়ের গুরুত্ব মুছে দিতে পারে না। অন্যদিকে, মালহার পাটেকর আইনি প্রক্রিয়ার নিষ্পত্তির কথা উল্লেখ করে চলমান আলোচনায় আপত্তি জানিয়েছেন।
দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে এই পার্থক্যই নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে। তবে পুরনো অভিযোগ, আইনি সিদ্ধান্ত এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে তনুশ্রীর সাম্প্রতিক প্রশ্ন—এই তিনটি বিষয়কে এক করে দেখা ঠিক হবে না।




