‘বয়স না হলে পিঠের ছাল তুলে নিতাম’! আশিসকে সেই হুমকি কেন দিয়েছিলেন বিজেপির মণ্ডল সভাপতি?

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর ফের আলোচনায় শক্তিগড়ের সেই ভাইরাল ভিডিয়ো। ২১ জুলাইয়ের পথে বিজেপি নেতা সৌমিত্র ঘোষ কী বলেছিলেন, কুণাল ঘোষের অভিযোগেই উঠল নতুন প্রশ্ন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই সামনে এল পুরনো একটি ভাইরাল ভিডিয়ো। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের দাবি, ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে কলকাতায় যাওয়ার পথে শক্তিগড়ে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে হেনস্থা ও হুমকি দিয়েছিলেন বিজেপির এক স্থানীয় নেতা। তাঁর অভিযোগ, সেই ঘটনার ভিডিয়োই দেখায় কী ভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অপমান ও মানসিক চাপে ফেলার চেষ্টা চলছিল।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর তাঁর বাড়ির পাশের দলীয় কার্যালয় থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিঠিও পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেই চিঠিতে তিনি দুর্নীতির সঙ্গে কোনও ভাবেই যুক্ত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। তবে চিঠিটি তাঁরই লেখা কি না এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তের বিষয়।

এই পরিস্থিতিতেই কুণাল ঘোষ পুরনো সেই ভিডিয়োর প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগ প্রমাণের আগেই কাউকে ‘চোর’ বলে দাগিয়ে দেওয়া, প্রকাশ্যে অপমান করা কিংবা পুলিশি ভয় দেখানোর প্রবণতা একজন মানুষের উপর প্রবল মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।

কুণালের দাবি, ২১ জুলাইয়ের সভায় যোগ দিতে রামপুরহাট থেকে কলকাতার পথে শক্তিগড়ে চা খেতে থেমেছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ান বর্ধমান উত্তর বিধানসভার ৬ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি সৌমিত্র ঘোষ। প্রকাশ্যে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কেন তিনি ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে যাচ্ছেন।

সেই ভিডিয়োয় সৌমিত্র ঘোষকে আশিসের উদ্দেশে বলতে শোনা যায় বলে অভিযোগ, “চুরি করে দল শেষ করে দিয়ে যাচ্ছেন? বয়স না হলে চাপকে পিঠের ছাল তুলে দিতাম।” আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য সেই সময় কোনও পাল্টা জবাব না দিয়ে সেখান থেকে চলে যান। ঘটনাটি নিয়ে সে সময়ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

কুণাল ঘোষের বক্তব্য, একজন প্রবীণ রাজনীতিককে মাঝরাস্তায় দাঁড় করিয়ে এই ধরনের ভাষায় আক্রমণ করা কোনও ভাবেই স্বাভাবিক রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্যে পড়ে না। তাঁর কথায়, “একুশে জুলাই যাওয়ার পথে বিজেপির এক নেতা মাঝ রাস্তায় তাঁকে অপমান করেছে।” কুণালের অভিযোগ, সামাজিক ভাবে কাউকে কলঙ্কিত করার এই প্রবণতার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর উদ্ধার হওয়া চিঠিতেও রাজনৈতিক জীবন নিয়ে তাঁর হতাশার কথা উঠে এসেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। সেখানে তিনি দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং রাজনীতিতে আসাটাই ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলেও লিখেছেন বলে প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুকে শুধুমাত্র কোনও একটি ঘটনা বা অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার আগে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করাই জরুরি।

এই ঘটনায় মুখ খুলেছেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলও। তাঁর দাবি, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং শক্তিগড়ে অন্যায় করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি দেখবেন বলে তাঁকে জানিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন অনুব্রত। তাঁর আরও দাবি, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও এ বিষয়ে এফআইআর করার কথা বলেছিলেন।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিয়ে এখন একাধিক প্রশ্ন সামনে। হাতে লেখা চিঠির সত্যতা, মৃত্যুর কারণ এবং তাঁর উপর সাম্প্রতিক সময়ে কোনও ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপ ছিল কি না—সবই তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন। রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তেই স্পষ্ট হতে পারে, ঠিক কী ঘটেছিল এই প্রবীণ রাজনীতিকের জীবনের শেষ অধ্যায়ে।

তবে শক্তিগড়ের সেই ভিডিয়ো ফের সামনে আসায় একটি বিষয় নতুন করে আলোচনায় এসেছে—রাজনৈতিক মতবিরোধ কি সত্যিই ব্যক্তিগত অপমান, হুমকি এবং সামাজিক হেনস্থার পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া উচিত?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর