৩১ অক্টোবর, শনিবার, পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় পুরোপুরি স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা নেই। ঘূর্ণিঝড় অর্ণব (Cyclone Arnab) স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর শক্তি হারালেও তার পরোক্ষ প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের আশঙ্কা রয়েছে। কলকাতাতেও দিনের আকাশ মেঘলা থাকতে পারে, সঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় আবার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
কলকাতার ক্ষেত্রে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকতে পারে। ঘণ্টাভিত্তিক পূর্বাভাসে দিনের প্রথম ভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি, বিকেলের দিকে তা কমতে পারে। তবে আর্দ্রতা বেশি থাকায় বৃষ্টি থামলেও ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি থাকতে পারে।
কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া: আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় শনিবারও বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে আগের কয়েক দিনের তুলনায় বৃষ্টির তীব্রতা কমার ইঙ্গিত রয়েছে।
পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়াতেও স্থানীয়ভাবে বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। ফলে শনিবার বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা থাকলে আকাশের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা জরুরি।
উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা: দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি কিছুটা বেশি উদ্বেগের। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিচ্ছিন্ন কয়েকটি জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহের কিছু জায়গাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে যাতায়াত ও নিচু এলাকায় জল জমার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কি কাটল? বঙ্গোপসাগরে তৈরি ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করার পর ক্রমশ শক্তি হারিয়েছে। স্থলভাগে প্রবেশের পর সেটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তৈরি হওয়া আবহাওয়াগত পরিস্থিতির প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা ছিল। ৩১ অক্টোবর থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমার ইঙ্গিত মিললেও কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়ের মূল বিপদ কেটে গেলেও রাজ্যের আবহাওয়ায় তার প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়নি।
তাপমাত্রা কি কমবে? কলকাতায় শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে। বৃষ্টির কারণে দিনের তাপমাত্রায় সাময়িক স্বস্তি মিললেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় অস্বস্তি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে আগামী কয়েক দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। বৃষ্টির পরিমাণ কমলে দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। ফলে এখনই শীতের আমেজ ফিরে আসার সম্ভাবনা কম।
আজকের আবহাওয়ায় কোথায় সতর্ক থাকবেন?
-
কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
-
দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে।
-
দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
-
উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় দমকা হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে।
-
বৃষ্টির সময় খোলা জায়গা, গাছের নিচে বা জল জমে থাকা রাস্তায় সতর্ক থাকুন।
সব মিলিয়ে, ৩১ অক্টোবর শনিবার পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় বৃষ্টির প্রভাব থাকলেও ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে। কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিবর্তনের জন্য আলিপুর আবহাওয়া দফতরের (Regional Meteorological Centre, Kolkata) আপডেট অনুসরণ করা জরুরি।



