আগামীকাল শনিবার, ৩১ অক্টোবর কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের (Cyclone Arnab) অবশিষ্টাংশের প্রভাবে গত কয়েক দিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি হলেও, সপ্তাহান্তে সেই বৃষ্টির দাপট কমার সম্ভাবনা রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের কলকাতা কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
কলকাতার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও আবহাওয়ার পরিস্থিতি এক রকম থাকবে না। কোথাও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা, আবার কোথাও মেঘলা আকাশের মধ্যে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। ফলে আগামীকালের আবহাওয়া নিয়ে যাঁরা বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য জেলার ভিত্তিতে পূর্বাভাস জেনে রাখা জরুরি।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের ৩০ অক্টোবর দুপুর ১টার বিশেষ বুলেটিনে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার জন্য ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে শনিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এক-দু’টি জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে শুক্রবারের তুলনায় শনিবার বৃষ্টির বিস্তার কমার ইঙ্গিত দিয়েছে হাওয়া অফিস। তবে একেবারে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না।
কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার পর কয়েকটি জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলায় এক-দু’টি জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতার আগামীকালের আবহাওয়া কেমন থাকবে?
কলকাতার জন্য ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (India Meteorological Department) ৩০ অক্টোবরের শহরভিত্তিক পূর্বাভাসে শনিবার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার কথা বলা হয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
-
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
-
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
-
আকাশ: আংশিক মেঘলা।
-
বিশেষ পরিস্থিতি: কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা।
অর্থাৎ, শুক্রবারের বৃষ্টির পর শনিবার কলকাতায় তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে মেঘলা আকাশ ও বাতাসে জলীয় বাষ্পের কারণে অস্বস্তি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের আগামীকালের আবহাওয়া:
উত্তরবঙ্গে শনিবারও বৃষ্টির প্রভাব তুলনামূলক বেশি থাকবে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের একাধিক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে শনিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এক-দু’টি জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ওই সময়ের পরেও এই পাঁচ জেলায় অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে কয়েকটি জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে।
বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের কোন কোন জেলায় বৃষ্টি?
শনিবার কলকাতা ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।
-
কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কয়েকটি জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
-
পূর্ব মেদিনীপুর: বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কয়েকটি এলাকায়।
-
বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া: বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে।
-
হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া: এক-দু’টি জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টি চলতে পারে। ৪ নভেম্বরের পর দক্ষিণবঙ্গে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কি এখনও রয়েছে?
ঘূর্ণিঝড় অর্ণব স্থলভাগে প্রবেশের পর ক্রমশ শক্তি হারিয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের ৩০ অক্টোবরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, অর্ণবের অবশিষ্টাংশ উত্তর ছত্তীসগঢ় ও সংলগ্ন পূর্ব মধ্যপ্রদেশের উপর নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। এই ব্যবস্থার প্রভাবে উত্তরবঙ্গে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির প্রভাব বজায় থাকতে পারে।
এদিকে দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় আরও একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। সেটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ৩১ অক্টোবরের আশপাশে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। তবে এই নতুন নিম্নচাপের সঙ্গে সম্পর্কিত পশ্চিমবঙ্গের জন্য আপাতত কোনও আবহাওয়া সতর্কতা জারি করেনি আলিপুর আবহাওয়া দফতর।



