জোড়া নিম্নচাপের প্রভাবে হেমন্তেও বৃষ্টি! উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা, দক্ষিণবঙ্গে কবে ফিরবে রোদ?

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের অবশিষ্টাংশ ও বঙ্গোপসাগরের নতুন নিম্নচাপের প্রভাবে ৩০ অক্টোবর বৃষ্টির পূর্বাভাস বাংলায়। দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা, দক্ষিণবঙ্গে ৩১ অক্টোবর থেকে আবহাওয়ার উন্নতির সম্ভাবনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

হেমন্তের শুরুতেই ফের বৃষ্টির দাপট বাংলায়। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের (Cyclone Arnab) অবশিষ্টাংশ শক্তি হারিয়ে নিম্নচাপে পরিণত হলেও তার প্রভাব কাটেনি পুরোপুরি। অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ তৈরির পরিস্থিতিও আবহাওয়ার উপর প্রভাব ফেলছে। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর, দক্ষিণবঙ্গে ৩১ অক্টোবর থেকে আবহাওয়ার উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির দাপট কমতে পারে রবিবার থেকে।

শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা, হাওড়া, হুগলি-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় মেঘলা আকাশের সঙ্গে বৃষ্টির দেখা মিলেছে। কোথাও হালকা, কোথাও মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলির কিছু অংশে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ, কোন দিকে এগোবে?

ভারতের মৌসম ভবন (India Meteorological Department বা IMD)-এর ২৯ অক্টোবরের বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের অবশিষ্টাংশ দক্ষিণ ছত্তীসগঢ় ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশার উপর নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় নতুন নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার পরিস্থিতিও রয়েছে। এই আবহাওয়া ব্যবস্থার গতিপ্রকৃতির উপর নজর রাখছে আবহাওয়া দপ্তর।

নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় দমকা হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনা থাকায় মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাও বহাল রয়েছে।

উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির দাপট বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং-সহ অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে ধস এবং নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ৭-১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। শুক্রবার বৃষ্টির ব্যাপকতা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

কবে কমবে বৃষ্টি?

দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তির খবর, শনিবার ৩১ অক্টোবর থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও আকাশ পুরোপুরি পরিষ্কার হবে না। ১ ও ২ নভেম্বরও কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কলকাতার ক্ষেত্রেও আগামী কয়েক দিন মেঘলা আকাশের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।

উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে রবিবার থেকে। প্রথমে মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বৃষ্টির দাপট কমার সম্ভাবনা রয়েছে। পরে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও অন্যান্য জেলাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

অর্থাৎ, নভেম্বরের শুরুতেই বাংলার আবহাওয়ায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। তবে নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতি বদলালে বৃষ্টির পূর্বাভাসেও পরিবর্তন হতে পারে। তাই আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া দপ্তরের নিয়মিত সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর