বিদেশি সংস্থার হাতে যাচ্ছে IDBI Bank! ৫২,৮৭৮ কোটির চুক্তিতে কেন্দ্রের সিলমোহর, ২ দিনের অনশনে কর্মীরা, পাশে রাহুল গান্ধী

আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ শেয়ার ৫২,৮৭৮ কোটি টাকায় ফেয়ারফ্যাক্সের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। প্রতিবাদে ২ ও ৩ নভেম্বর দেশজুড়ে অনশনের ডাক কর্মীদের, সমর্থন রাহুল গান্ধীর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আইডিবিআই ব্যাঙ্কের (IDBI Bank) সিংহভাগ মালিকানা কানাডার বিনিয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। ব্যাঙ্কটির ৬০.৭২ শতাংশ শেয়ার ৫২,৮৭৮ কোটি টাকার বিনিময়ে ফেয়ারফ্যাক্স ফিনান্সিয়াল হোল্ডিংসের (Fairfax Financial Holdings) অধীনস্থ সংস্থার কাছে বিক্রির প্রস্তাবে গত ১৪ অক্টোবর অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী ২ ও ৩ নভেম্বর দেশজুড়ে দু’দিনের অনশন কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন আইডিবিআই ব্যাঙ্কের কর্মীরা। তাঁদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তাঁর বক্তব্য, সরকারি অর্থে তৈরি একটি প্রতিষ্ঠানকে শুধুমাত্র বিক্রির সম্পদ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোট ৬০.৭২ শতাংশ শেয়ারের মধ্যে সরকারের হাতে থাকা ৩০.৪৮ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বিমা নিগমের (LIC) হাতে থাকা ৩০.২৪ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করা হবে। এই অধিগ্রহণের জন্য কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স গোষ্ঠীর সংস্থা ৫২,৮৭৮.০৮ কোটি টাকা দেবে। লেনদেন সম্পন্ন হলে কেন্দ্রের হাতে থাকবে ১৫ শতাংশ এবং এলআইসির হাতে থাকবে ১৯ শতাংশ শেয়ার। অর্থাৎ ব্যাঙ্কটির সম্পূর্ণ মালিকানা বিদেশি সংস্থার হাতে যাচ্ছে না, তবে পরিচালন নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে নতুন কৌশলগত বিনিয়োগকারীর হাতে।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য, আইডিবিআই ব্যাঙ্কের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং ভবিষ্যতের মূলধনের প্রয়োজন বিবেচনা করেই এই কৌশলগত পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে ব্যাঙ্কটির আর্থিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রম্পট কারেকটিভ অ্যাকশন (PCA) কাঠামোর আওতায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ২০২১ সালে সেই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়।

কেন প্রতিবাদে নামছেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা?

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে ইউনাইটেড ফোরাম অফ আইডিবিআই অফিসার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ (United Forum of IDBI Officers and Employees)। কর্মীদের আশঙ্কা, বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়া এগোলে তাঁদের চাকরির শর্ত, পেনশন, সামাজিক সুরক্ষা এবং সংরক্ষণের সুবিধা প্রভাবিত হতে পারে।

সংগঠনের দাবি, আইডিবিআই ব্যাঙ্কের সরকারি মালিকানা বজায় রাখতে হবে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রকে অন্তত আরও ৬ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করে সরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছে তারা। আগামী ২ ও ৩ নভেম্বর দেশজুড়ে দু’দিনের অনশন কর্মসূচির মাধ্যমে এই প্রতিবাদ জানাবেন কর্মীরা।

কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে কী বললেন রাহুল গান্ধী?

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর আইডিবিআই ব্যাঙ্কের কর্মীদের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি ব্যাঙ্কটির আর্থিক সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, কর্মীদের পরিশ্রমের ফলে গত বছর ব্যাঙ্কটি ৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি মুনাফা করেছে। তা সত্ত্বেও কেন এই ব্যাঙ্কের সিংহভাগ মালিকানা বিক্রি করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

রাহুলের বক্তব্য, জনসাধারণের অর্থে তৈরি প্রতিষ্ঠান আসলে দেশের মানুষের সম্পদ। সেটিকে বিক্রির উপযুক্ত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ব্যাঙ্কটির পরিচালন নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি সংস্থার হাতে গেলে তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা প্রভাবিত হতে পারে।

কর্মীদের উদ্দেশে বিরোধী দলনেতার বার্তা, তাঁদের দাবি ও আন্দোলনের পাশে রয়েছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, কেন্দ্রের তরফে এই চুক্তিকে দেশের আর্থিক ক্ষেত্রে বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ এবং ব্যাঙ্কের কৌশলগত পুনর্গঠনের পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৪ অক্টোবর মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললেও ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে আগামী দিনে কর্মীদের আন্দোলন, কেন্দ্রের অবস্থান এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন—সবকিছুই আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর