উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের সআদতগঞ্জে একই পরিবারের তিন সদস্যকে গুলি করে খুনের ঘটনায় সামনে এল হত্যাকাণ্ডের নতুন ভিডিও। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ২৩ সেকেন্ডের মধ্যে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালিয়েছেন অভিযুক্ত ঋষভ শুক্ল (Rishabh Shukla)। প্রথমে দু’বার গুলি চালানোর পর পিস্তলের ম্যাগাজিন বদলে ফের গুলি করেন তিনি। পরে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই দাবি করেন, তাঁকে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল, তাই তিনি গুলি চালিয়েছেন। যদিও তাঁর আত্মরক্ষার দাবি এখনও তদন্তের বিষয়।
ঘটনাটি ঘটেছে লখনউয়ের সআদতগঞ্জ (Saadatganj) থানার অন্তর্গত নওবাস্তার ব্রাহ্মণী টোলা এলাকায়। ২৬ অক্টোবর, সোমবার সকালে গাড়ি পার্কিং এবং একটি ফাঁকা জমি ব্যবহারকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী পরিবারের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। সেই বিবাদই শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী গুলিচালনায় পরিণত হয়। মৃত্যু হয় একই পরিবারের শিবাজি তিওয়ারি (৬২), শিবেন্দ্র তিওয়ারি ওরফে শম্ভু (৫৫) এবং সুয়শ তিওয়ারির (৩০)।
বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে ঘটনার ভয়াবহ মুহূর্তগুলি ধরা পড়েছে। NDTV-তে প্রকাশিত ফুটেজ অনুযায়ী, প্রথমে শম্ভু তিওয়ারিকে লক্ষ্য করে গুলি চালান ঋষভ। তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। এরপর সুয়শ ও শিবাজির উপরও গুলি চালানো হয়।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রথম দফায় পরপর দু’বার গুলি চালানোর পর পিস্তলের ম্যাগাজিন বদল করেন অভিযুক্ত। এরপর ফের তিন রাউন্ড গুলি চালান তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ২৩ সেকেন্ডের মধ্যে পাঁচবার গুলি চালানোর দৃশ্য ধরা পড়েছে ফুটেজে। একটি দৃশ্যে সুয়শকে অভিযুক্তের হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যাচ্ছে।
শিবাজি তিওয়ারি ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাঁকেও লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে ভিডিও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মহিলাদের চিৎকার এবং আহতদের বাঁচানোর আকুতি সত্ত্বেও গুলিচালনা থামেনি। পুরো ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গুলিচালনার পরেও হাতে পিস্তল নিয়ে ঘটনাস্থলে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় ঋষভকে। সেই সময় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বারবার দাবি করেন, প্রথমে তাঁকেই আক্রমণ করা হয়েছিল। তাঁর মুখে শোনা যায়, ইট দিয়ে আঘাত করার পরেই তিনি গুলি চালিয়েছেন। অভিযুক্তের পরিবারের কয়েকজনকেও আত্মরক্ষার পক্ষে কথা বলতে শোনা গিয়েছে বলে ভিডিও-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্তের বক্তব্যকে এখনও সত্য বলে মেনে নেয়নি তদন্তকারী সংস্থা। সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, কারা প্রথম আক্রমণ করেছিলেন এবং গুলিচালনার সময় ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুই পক্ষের ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার ধারাবাহিকতা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ঋষভকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে গুলিচালনায় ব্যবহৃত পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মৃতদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আটজনের বিরুদ্ধে খুন-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জন এখনও পলাতক বলে পুলিশের সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে ঋষভ শুক্লকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে। সংঘর্ষের সময় তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল, কীভাবে অতিরিক্ত গুলি বা ম্যাগাজিন পাওয়া গেল এবং ঘটনার আগে দুই পরিবারের মধ্যে কী ধরনের বিবাদ চলছিল, সেই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ঘটনার পর প্রশাসনিক স্তরেও পদক্ষেপ করা হয়েছে। সআদতগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সন্তোষ কুমার আর্য এবং কাশ্মীরি মহল্লা পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-ইনস্পেক্টর অজয় কুমার চৌরাসিয়াকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।



