স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের (Stephen Fleming) দীর্ঘ অধ্যায়ের পর অবশেষে চেন্নাই সুপার কিংসের (Chennai Super Kings) নতুন কোচের নাম ঘোষণা হল। সোমবার প্রাক্তন ভারতীয় পেসার জ়াহির খানকে (Zaheer Khan) আইপিএল ২০২৭-এর প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ করল সিএসকে। ১৮ বছরের ফ্লেমিং-যুগ শেষ হওয়ার পর ভারতীয় ক্রিকেটের পরিচিত মুখের হাতেই দায়িত্ব তুলে দিল পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন দল।
ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে চেন্নাইয়ের সম্পর্ক ছিল আইপিএলের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী কোচিং অধ্যায়। ২০০৮ সালে প্রথম আইপিএল মরসুমে ক্রিকেটার হিসেবে চেন্নাইয়ের অংশ ছিলেন তিনি। পরের বছর থেকেই কোচিং স্টাফে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলান। ২০২৬ মরসুমের পর সেই অধ্যায়ের ইতি ঘটে। এরপর ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের দায়িত্ব নেন ফ্লেমিং।
ফ্লেমিং সরে যাওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন ছিল, ধোনিদের পরবর্তী কোচ কে হবেন? সেই জল্পনায় একাধিক নাম ঘুরলেও শেষ পর্যন্ত জ়াহিরকেই বেছে নিল চেন্নাই। নতুন দায়িত্ব আপাতত ২০২৭ মরসুমকে কেন্দ্র করেই। এর ফলে প্রথম বার আইপিএলে কোনও দলের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেলেন ভারতের প্রাক্তন বাঁহাতি পেসার।
জ়াহিরের আইপিএল অভিজ্ঞতা অবশ্য দীর্ঘদিনের। খেলোয়াড় হিসেবে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে খেলেছেন তিনি। ১০০টি আইপিএল ম্যাচে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১০২ উইকেট। ২০১৭ সালে ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অন্য ভূমিকায় যুক্ত হন।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট অপারেশনস হিসেবে কাজ করেছেন জ়াহির। তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি দলের পারফরম্যান্স ও ক্রিকেটার উন্নয়নের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০২৫ মরসুমে লখনউ সুপার জায়ান্টসের (Lucknow Super Giants) মেন্টর হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ২০২৬ মরসুমের আগে সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে।
এবার সম্পূর্ণ নতুন পরীক্ষার সামনে জ়াহির। মেন্টর বা ক্রিকেট অপারেশনসের দায়িত্ব নয়, সরাসরি প্রধান কোচের চেয়ার। অর্থাৎ দলের কৌশল, ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ এবং নতুন মরসুমের প্রস্তুতিতে তাঁকে আরও বড় দায়িত্ব সামলাতে হবে।
চেন্নাইয়ের পক্ষ থেকেও জ়াহিরের নিয়োগকে শুধু অভিজ্ঞ প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কোচ করার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তরুণ ক্রিকেটারদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং বিশেষ করে পেসারদের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন দায়িত্ব পেয়ে জ়াহির নিজেও উচ্ছ্বসিত। চেন্নাইয়ের মতো আইপিএলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যোগ দেওয়াকে তিনি সম্মানের বলে জানিয়েছেন। ক্রিকেটার হিসেবে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে খেলার স্মৃতি এবং চিপকের দর্শকদের আবহের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
সিএসকের পক্ষ থেকেও জ়াহিরকে স্বাগত জানানো হয়েছে। দলের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তাঁর দীর্ঘ ক্রিকেটজীবন, অভিজ্ঞতা এবং তরুণ প্রতিভাদের সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা নতুন দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাশি বিশ্বনাথনও জ়াহিরকে বিশ্বমানের বোলার এবং তরুণ ক্রিকেটারদের মেন্টর হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
চেন্নাইয়ের জন্য এই বদলটি এমন সময়ে এল, যখন দলকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ফ্লেমিংয়ের অধীনে দীর্ঘদিনের কাঠামোর পর এবার জ়াহিরের সামনে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করে দলের পরবর্তী অধ্যায়ের ভিত তৈরি করার সুযোগ।
ফ্লেমিংয়ের জায়গা নেওয়া যে সহজ দায়িত্ব নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে জ়াহিরের সামনে এখন নিজের কোচিং দর্শনকে আইপিএলের অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজির কাঠামোর সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার পরীক্ষা। ২০২৭-এর আইপিএলে চেন্নাইয়ের ডাগআউটে তাঁর উপস্থিতিই বলে দেবে, ফ্লেমিং-পরবর্তী যুগে ধোনিদের দল কোন পথে এগোয়।



