স্টিফেন ফ্লেমিং ও চেন্নাই সুপার কিংসের পথচলা অবশেষে শেষ হল। আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচ-ফ্র্যাঞ্চাইজি জুটিগুলির একটি সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের ঘোষণা করেছে। এক বিবৃতিতে চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) জানিয়েছে, পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই হেড কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং দায়িত্ব ছাড়ছেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বে সিএসকে আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম সফল দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিবৃতিতে তাঁর অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়েছে, তাঁর তৈরি করা ঐতিহ্য আগামী দিনেও দলকে অনুপ্রাণিত করবে।
২০০৮ সালে আইপিএলের সূচনালগ্ন থেকেই চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক। ২০০৯ সালে তিনি হেড কোচের দায়িত্ব নেন এবং এরপর প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দলকে একাধিক সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেন।
ফ্লেমিংয়ের কোচিংয়ে চেন্নাই সুপার কিংস পাঁচবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। পাশাপাশি দু’বার Champions League T20-এর শিরোপাও জিতেছে। তাঁর অধীনে দল ১২ বার প্লে-অফে এবং ১০ বার আইপিএলের ফাইনালে উঠেছে, যা এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অন্যতম সেরা রেকর্ড।
যদিও শেষ কয়েকটি মরশুম সিএসকের জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। ২০২৩ সালের পর আর প্লে-অফে উঠতে পারেনি দল। টানা তিন মরশুম পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকে শেষ করায় কোচিং কাঠামোয় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছিল। সেই আবহেই ফ্লেমিংয়ের বিদায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
বিদায়ী বার্তায় স্টিফেন ফ্লেমিং বলেন, প্রায় ১৮ বছরের এই যাত্রা তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। অসংখ্য সাফল্য, কঠিন সময় এবং স্মরণীয় মুহূর্তের জন্য তিনি চেন্নাই সুপার কিংস ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, সিএসকে সবসময় তাঁর হৃদয়ের খুব কাছাকাছি থাকবে এবং ভবিষ্যতেও তিনি এই দলের সমর্থক হয়ে থাকবেন।
সিএসকের মালিক রূপা গুরুনাথও ফ্লেমিংয়ের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিচিতি, সংস্কৃতি ও সাফল্যের ভিত গড়ে তুলতে তাঁর ভূমিকা ছিল অসামান্য। অন্যদিকে ফ্র্যাঞ্চাইজির ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাশী বিশ্বনাথন জানিয়েছেন, ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারা তাঁদের কাছে গর্বের বিষয়।
স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের বিদায়ের মাধ্যমে আইপিএলের এক স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। এখন ক্রিকেট মহলের নজর, চেন্নাই সুপার কিংসের নতুন হেড কোচ হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং আগামী মরশুমে দল কোন পথে এগোয়।




