কসবার অ্যাক্রোপলিস মলে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, চিকিৎসকের অভিযোগে গ্রেফতার ৬

স্বামী ও বন্ধুদের সঙ্গে কসবার অ্যাক্রোপলিস মলে সিনেমা দেখতে গিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ মহিলা চিকিৎসকের। ঘটনার পর ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে কসবা থানার পুলিশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কসবার অ্যাক্রোপলিস মলে সিনেমা দেখতে গিয়ে শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুললেন বাঁশদ্রোণীর এক মহিলা চিকিৎসক। রবিবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় ওই মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে কসবা থানার পুলিশ।

অভিযোগকারিনীর দাবি, স্বামী এবং কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে অ্যাক্রোপলিস মলে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। সিনেমা চলাকালীন ‘সিনেপলিস’-এর ভিতরেই একদল যুবক তাঁদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।

মহিলার অভিযোগ, অভিযুক্তেরা তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গীদের নানা ধরনের অশালীন ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযুক্তেরা তাঁদের উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ।

ঘটনার খবর পেয়ে হল কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। তাঁরাই কসবা থানায় খবর দেন। খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অ্যাক্রোপলিস মলে পৌঁছয় এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

পুলিশের দাবি, সেই সময় অভিযুক্তেরা পুলিশকর্মীদের সঙ্গেও তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। হলের ভিতরে উপস্থিত অন্য কয়েক জনের সঙ্গেও তাঁরা অভব্য আচরণ করেন বলে অভিযোগ। এরপরই ছ’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

কারা গ্রেফতার?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকা পরিচয়পত্র দেখে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ধৃতেরা হলেন আনন্দ কুমার, সুরেশ কুমার, অরবিন্দ কুমার, সৃজন দরবার, মনোজ রায় এবং অরিন্দম ঘোষ।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সৃজন দরবার নিজেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া বলে পরিচয় দেন। তাঁকে গ্রেফতার করলে পরিণতি খারাপ হবে বলেও তিনি হুমকি দিয়েছিলেন বলে পুলিশের অভিযোগ।

ঘটনার পর অ্যাক্রোপলিস মলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সিনেমা হলের ভিতরে দর্শকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী কী ধারায় মামলা করা হয়েছে এবং তদন্তে আরও কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর।

এই ঘটনায় মূল অভিযোগকারিণীর বয়ান, হল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্ত—তিনটি দিকই গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন