আম্বানি-সাক্ষাতে মুম্বই যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, বাংলায় বিনিয়োগ টানতে বড় উদ্যোগ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে বড় শিল্প ও বিনিয়োগ টানার লক্ষ্যে এবার মুম্বইয়ে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের (Reliance Industries) চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সঙ্গে রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রীর মুম্বই সফর অবশ্য হঠাৎ করে হয়নি। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, গণেশ চতুর্থীর পর তিনি মুম্বই গিয়ে মুকেশ আম্বানি এবং অনন্ত আম্বানির সঙ্গে দেখা করবেন। রিলায়েন্স গোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও বাংলায় বিনিয়োগের আগ্রহের কথা মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন।

এর আগে অনন্ত আম্বানির সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের কথাও জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি ছিল, রিলায়েন্স বাংলায় বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। ডেটা সেন্টার এবং সেমিকন্ডাক্টর হাবের মতো ক্ষেত্র নিয়েও আগ্রহের কথা তিনি জানিয়েছিলেন। তবে কোনও নির্দিষ্ট প্রকল্পের চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বাংলায় আসতে পারে বনতারা-র নতুন শাখা?

মুখ্যমন্ত্রীর আম্বানি-সাক্ষাৎ ঘিরে আরও একটি সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গুজরাটে আম্বানি পরিবারের উদ্যোগে গড়ে ওঠা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পশু চিকিৎসা প্রকল্প ‘বনতারা’ (Vantara)-র পূর্ব ভারতে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তাব উঠতে পারে বলে একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বাংলার বনাঞ্চলকে এই ধরনের প্রকল্পের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরার কথাও বলা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্স থেকে শুরু করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রাম—রাজ্যের একাধিক এলাকায় বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল রয়েছে। ফলে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ, পশু চিকিৎসা এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গকে সম্ভাব্য জায়গা হিসেবে আলোচনায় আনা হতে পারে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বাংলায় বনতারা-র শাখা তৈরির বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি। ফলে বিষয়টিকে আপাতত সম্ভাব্য প্রস্তাব বা আলোচনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

শিল্প বিনিয়োগে একের পর এক বৈঠক

২০২৬ সালের মে মাসে রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিল্প ও বিনিয়োগ টানার বিষয়ে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। পাশাপাশি রাজ্যের শিল্পনীতিতে পরিবর্তন, শিল্পের জন্য জমি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে রোডম্যাপ তৈরির কথাও সরকার জানিয়েছে।

শুধু আম্বানি নয়, অন্যান্য বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে। সম্প্রতি আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লার সঙ্গে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বৈঠক হয়েছে। বাংলায় গোষ্ঠীর ব্যবসা সম্প্রসারণ ও সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে রিপোর্টে প্রকাশ।

এর পাশাপাশি আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গেও রাজ্যের যোগাযোগ রয়েছে। নিউ টাউনে প্রস্তাবিত ২,০০০ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানে ২৪ সেপ্টেম্বর গৌতম আদানির উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও নজর

রাজ্য সরকারের দাবি, নতুন শিল্প ও বিনিয়োগ এলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে শিক্ষিত যুবকদের জন্য নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি করাই শিল্প বিনিয়োগ বাড়ানোর অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, দুর্গাপুজোর আগে ৩৩টি শিল্প প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। ফলে আগামী দিনে শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক বড় ঘোষণা সামনে আসতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে মুকেশ আম্বানির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর মুম্বই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডেটা সেন্টার, সেমিকন্ডাক্টর, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ কিংবা রিলায়েন্সের অন্যান্য ব্যবসা—কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলায় নতুন করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের।

তবে বৈঠকের পর নির্দিষ্ট প্রকল্প, বিনিয়োগের অঙ্ক বা সময়সীমা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই চূড়ান্ত বিনিয়োগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন