করম পরব ঘিরে রবিবার উৎসবের আবহ পুরুলিয়ায়। ২০ সেপ্টেম্বর পুরুলিয়ার কড়াডি মাঠে কুড়মি সমাজের ‘করম পরবতিয়া মহাজড়ুআহি’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আয়োজকদের দাবি, এই মহাসমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত হতে পারে এবং প্রায় ৪০ হাজার করম নৃত্যদলের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে।
করম পরবকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সাজসাজ রব পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলে। কড়াডি মাঠে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কুড়মি সমাজের এই বড় সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মসূচিকে ঘিরে বাংলার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকেও মানুষের আসার কথা রয়েছে। আয়োজকদের তরফে বিপুল জনসমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রবিবার পুরুলিয়া সফরে মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। সূত্রের খবর, দুপুরে হেলিকপ্টারে পুরুলিয়ায় পৌঁছতে পারেন তিনি। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে জেলার উন্নয়নমূলক কাজ, সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি, পরিকাঠামো এবং নাগরিক পরিষেবা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
এর পাশাপাশি পুরুলিয়া রবীন্দ্র ভবনেও একটি প্রকাশ্য কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। সেখানে সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ করম পরবের মূল অনুষ্ঠানকে ঘিরে সফর হলেও প্রশাসনিক দিক থেকেও দিনটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
কড়াডি মাঠের অনুষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ হতে চলেছে কুড়মি সমাজের ঐতিহ্যবাহী করম নৃত্য। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হাজার নৃত্যদলের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী রাজ্যগুলির কুড়মি সমাজের প্রতিনিধিদেরও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এই কর্মসূচির রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও জঙ্গলমহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কুড়মি সমাজের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে তপশিলি উপজাতি বা ST তালিকাভুক্তির দাবি জানিয়ে আন্দোলন করে আসছে। গত কয়েক বছর ২০ সেপ্টেম্বর ঘিরে রেল ও সড়ক অবরোধের কর্মসূচিও দেখা গিয়েছিল। এ বার সেই একই দিনে বড় আকারের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
তবে এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে সব মহলে একই প্রতিক্রিয়া নেই। কুড়মি সমাজের ST-র দাবিকে কেন্দ্র করে আদিবাসী সংগঠনগুলির একাংশের আপত্তিও সামনে এসেছে। ফলে করম পরবের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি যেমন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই তা জঙ্গলমহলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সমীকরণেও নজর কেড়েছে।
এর আগে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছিল, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Himanta Biswa Sarma) এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি (Mohan Charan Majhi)-কেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ও সরকারি নিশ্চিতকরণের বিষয়টি আলাদা।
ফলে রবিবার পুরুলিয়ার দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—দুই মহলেরই। একদিকে করম পরবের সাংস্কৃতিক উদ্যাপন, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক ও জনসংযোগ কর্মসূচি। কড়াডির এই মহাসমাবেশ জঙ্গলমহলের সামাজিক সমীকরণে কোনও নতুন বার্তা দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।



