পুজোর আগে চিনির দামে স্বস্তি, মজুতের নিয়মে বড় বদল কেন্দ্রের, ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুযোগ

আগস্টে কেজি প্রতি প্রায় ৬৫ টাকা ছোঁয়ার পর সেপ্টেম্বরে চিনির খুচরো দাম নেমেছে ৫৮.৫০ টাকায়। উৎসবের আগে bulk consumers-এর মজুতসীমা ৩০ দিন করল কেন্দ্র।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পুজোর আগে চিনির বাজারে কিছুটা স্বস্তির ছবি। আগস্টে খুচরো বাজারে কেজি প্রতি প্রায় ৬৫ টাকা পর্যন্ত ওঠার পর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তা নেমে এসেছে প্রায় ৫৮.৫০ টাকায়। অর্থাৎ শীর্ষ দামের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে খুচরো দাম। এই পরিস্থিতিতে উৎসবের মরশুমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে bulk consumers-এর জন্য চিনির মজুতের সময়সীমা ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৩০ দিন করল কেন্দ্র।

তবে এই ছাড় নিঃশর্ত নয়। কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রকের (Department of Food & Public Distribution) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগের ১৫ দিনের সীমার অতিরিক্ত যে চিনি মজুত করা হবে, তা শুধুমাত্র Advance Authorisation Scheme (AAS) অথবা Tariff Rate Quota (TRQ)-এর আওতায় আমদানি করা চিনি থেকে সংগ্রহ করতে হবে। খোলা বাজার থেকে কেনা চিনির ক্ষেত্রে ১৫ দিনের মজুতসীমাই বহাল থাকছে।

মূলত মাসে ১০ টনের বেশি চিনি কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে এমন বড় ক্রেতা বা bulk consumers-দের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য। এর মধ্যে রয়েছে মিষ্টি প্রস্তুতকারক, বিস্কুট ও কনফেকশনারি সংস্থা, পানীয় শিল্প-সহ বিভিন্ন বড় ব্যবহারকারী। উৎসবের মরশুমে চাহিদা বাড়ার আগে তাঁদের হাতে অতিরিক্ত সরবরাহ রাখার সুযোগ তৈরি করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

চিনির দাম কমার পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, আগস্টে খুচরো বাজারে কেজি প্রতি প্রায় ৬৫ টাকা ছোঁয়ার পর দাম এখন প্রায় ৫৮.৫০ টাকা। একই সময়ে মিলগেট বা ex-mill পর্যায়ে চিনির দাম প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। সরকারের বক্তব্য, উৎপাদন পর্যায়ে দাম কমার যে সুফল, তার পুরোটা এখনও খুচরো বাজারে পৌঁছয়নি। তাই ব্যবসায়ী, পাইকার ও খুচরো বিক্রেতাদেরও দাম কমার সুবিধা ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

চিনির সরবরাহ বাড়াতে এর আগেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র। উৎসবের মরশুমের কথা মাথায় রেখে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন raw sugar আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। TRQ-এর মাধ্যমে এই আমদানির জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

তবে দেশের বাজার থেকে কেনা চিনির ক্ষেত্রে বাড়তি মজুতের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ কোনও bulk consumer যদি স্থানীয় বা open market থেকে চিনি কেনেন, তাহলে তাঁর ক্ষেত্রে ১৫ দিনের consumption-এর সমপরিমাণ মজুতের নিয়মই কার্যকর থাকবে। অতিরিক্ত ১৫ দিনের মজুত করতে হলে নির্দিষ্ট আমদানি প্রকল্পের অধীনে আসা চিনি ব্যবহার করতে হবে।

অন্যদিকে, চিনির dealer-দের ক্ষেত্রেও মজুত সংক্রান্ত আলাদা কড়াকড়ি রয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণভাবে dealer-দের সর্বোচ্চ stockholding limit ৪,০০০ কুইন্টাল থেকে কমিয়ে ২,০০০ কুইন্টাল করা হয়েছে এবং এই নিয়ম ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। কলকাতা ও সংলগ্ন বর্ধিত মহানগর এলাকায় অবশ্য ৪,০০০ কুইন্টালের সীমা রাখা হয়েছে।

সরকারের এই নীতিতে একদিকে উৎসবের আগে বড় শিল্প ও bulk buyers-দের সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা নমনীয়তা বাড়ল, অন্যদিকে খোলা বাজারের চিনি নিয়ে মজুতের লাগামও বহাল রইল। ফলে পুজোর মরশুমে চাহিদা বাড়লেও যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয় এবং দাম ফের দ্রুত বেড়ে না যায়, সেই ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।

এখন নজর থাকবে খুচরো বাজারে। মিলগেট পর্যায়ে দাম কমার সুবিধা যদি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে সাধারণ ক্রেতার কাছে পৌঁছয়, তা হলে পুজোর বাজারে চিনির দামে আরও স্বস্তি মিলতে পারে। তবে উৎসবের বাড়তি চাহিদা, আমদানি করা চিনির সরবরাহ এবং বাজারে মজুতের উপর নজরদারিই আগামী দিনে দামের গতিপথ ঠিক করবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন