পুজোর মুখে ফের চোখ রাঙাচ্ছে বঙ্গোপসাগর। থাইল্যান্ডের দিক থেকে এগিয়ে আসা ঘূর্ণাবর্ত উত্তর আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে পারে। ফলে ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর সেটি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারপরও সিস্টেমটির গতিপথ থাকবে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমমুখী।
আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে শক্তিশালী এই ওয়েদার সিস্টেম দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। অর্থাৎ পশ্চিম-মধ্য এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে এর অবস্থান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিস্টেমটি সরাসরি দক্ষিণবঙ্গের উপকূলে না এলেও এর প্রভাবে বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে।
ইতিহাসের দিকে তাকালেও সেপ্টেম্বরের তৃতীয় ও শেষ সপ্তাহে বাংলায় বড় ধরনের দুর্যোগের নজির রয়েছে। ১৯৭৮ সালের বিধ্বংসী বন্যা হয়েছিল সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে। আবার ১৮৮৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কলকাতায় তৎকালীন আবহাওয়া দপ্তরের নথিভুক্ত প্রথম সুপার সাইক্লোনের প্রভাব পড়েছিল। সেই কারণে সেপ্টেম্বরের এই সময়টায় নতুন করে তৈরি হওয়া আবহাওয়া পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর রাখছেন আবহবিদরা।
২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থেকেই বদলাবে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া। এ দিন দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বহু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির পরিমাণ ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও মঙ্গলবার বজ্রপাতের সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া চলার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে খোলা জায়গায় বা দুর্বল কাঠামোর আশপাশে থাকার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার পরিস্থিতি আরও সক্রিয় হতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সর্বত্র হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
ওই দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবারও বৃষ্টির দাপট কমার সম্ভাবনা নেই। দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুরে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার জেরে উপকূলবর্তী এবং নিচু এলাকাগুলিতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা প্রয়োজন।
অর্থাৎ, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর—টানা তিন দিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পর্ব তৈরি হতে পারে। নিম্নচাপটি পরবর্তী সময়ে কতটা শক্তিশালী হয় এবং ঠিক কোন পথে এগোয়, তার উপর বৃষ্টির পরিমাণ ও দুর্যোগের তীব্রতা আরও নির্ভর করবে। তাই পুজোর আগে বঙ্গোপসাগরের এই নতুন নিম্নচাপের গতিপথের দিকে নজর রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



