দেবীপক্ষ শুরুর আগেই কি ফের মহাকরণমুখী হবে বাংলার প্রশাসন? পূর্ত দফতরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৯ অক্টোবরের মধ্যে ঐতিহাসিক মহাকরণের সংস্কার ও অফিস তৈরির কাজ শেষ করে ভবনটি রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-সহ ছয় মন্ত্রী এবং মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজির জন্য অফিস তৈরির কাজও শেষ পর্যায়ে। তবে তাঁরা ঠিক কবে থেকে সেখানে বসে কাজ শুরু করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মহাকরণের সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে সম্প্রতি পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার (Ajay Poddar)। সূত্রের খবর, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী ৯ অক্টোবরের মধ্যে পূর্ত দফতরের কাজ সম্পূর্ণ করে প্রশাসনের হাতে ভবনটি তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে এখন জোরকদমে কাজ চলছে।
পূর্ত দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি বসবেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh), পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul), পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ (Shankar Ghosh), স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukhopadhyay) এবং পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রকের দফতর ফের মহাকরণে চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
শুধু মন্ত্রীদের অফিস নয়, প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের জন্যও আলাদা পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির জন্য নির্দিষ্ট অফিস তৈরির কাজও সংস্কার প্রকল্পের অংশ। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোও প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে মহাকরণে ইতিমধ্যেই পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রায় এবং আইন প্রতিমন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাসের জন্য নির্দিষ্ট ঘর রয়েছে। নতুন করে মুখ্যমন্ত্রী ও ছয় মন্ত্রীর দফতর চালু হলেও ওই দুই প্রতিমন্ত্রী নিজেদের ঘর থেকেই কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন বলে সূত্রের খবর।
ঐতিহাসিক মহাকরণ থেকে প্রশাসনিক দফতর সরিয়ে নবান্নে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ২০১৩ সালে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আমলে ব্রিটিশ আমলের এই ভবনের সংস্কারের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনিক কাজকর্মের কেন্দ্র নবান্নে স্থানান্তরিত করা হয়।
এর পর মহাকরণের সংস্কার নিয়ে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় ধরে পুরো কাজ শেষ হয়নি। ফলে নবান্নই থেকে যায় রাজ্য প্রশাসনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফের মহাকরণ থেকে প্রশাসনিক কাজ চালানোর পরিকল্পনা সামনে আসে। কিন্তু সংস্কারের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় এখনও মুখ্যমন্ত্রী-সহ অধিকাংশ মন্ত্রী নবান্ন থেকেই কাজ করছেন।
এ বার সেই ছবিই বদলানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পূর্ত দফতরের লক্ষ্য, মহালয়ার আগেই প্রয়োজনীয় অফিস পরিকাঠামো তৈরি করে দেওয়া। ৯ অক্টোবর কাজ হস্তান্তর হয়ে গেলে প্রশাসনের তরফে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার জানিয়েছেন, ৯ অক্টোবরের মধ্যে পূর্ত দফতর নিজেদের কাজ শেষ করে মহাকরণের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দেবে। মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছয় মন্ত্রী এবং শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের জন্য অফিস তৈরি হয়ে যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে তাঁরা কবে থেকে মহাকরণে বসে কাজ শুরু করবেন, সেই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি পূর্তমন্ত্রী।
ফলে মহালয়ার দিন, ১০ অক্টোবর থেকেই মহাকরণে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ শুরু হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। ভবন হস্তান্তরের সময়সীমা স্পষ্ট হলেও প্রশাসনিকভাবে নতুন দফতরগুলি কবে থেকে চালু হবে, সেই সিদ্ধান্তই এখন নজরে প্রশাসনিক মহলের।



