দিল্লির কুশক রোড এলাকায় ১৭ বছরের এক নাবালিকার দেহাংশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। ঘটনায় চার জনের নাম তদন্তে উঠে এসেছে, যাঁদের মধ্যে তিন জনই নাবালক। ইতিমধ্যেই ১৯ বছরের শিবম নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখে টেম্পো চালকের সন্ধান পাওয়ার পর তদন্ত এগোয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অভিযুক্তদের সঙ্গে ওই নাবালিকার পরিচয় ছিল। ১৭ বছরের এক অভিযুক্তের সঙ্গে দেখা করতেই তিনি ওই এলাকায় এসেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, সেই সময় অভিযুক্তরা মদ্যপ অবস্থায় ছিল। প্রথমে এক জন ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে এবং পরে ভয় দেখিয়ে একাধিক জন তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালায় বলে পুলিশের সন্দেহ।
এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে তাঁকে খুন করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ, দেহটি একটি খেতের মধ্যে ফেলে অভিযুক্তরা টেম্পোয় করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। দিল্লির কুশক রোডের জয়পাল রানা নামে এক ব্যক্তির খেত থেকে কয়েক দিন পর দেহাংশ উদ্ধার করা হয়।
দেহ উদ্ধারের সময় পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ছিল। বেশ কিছুটা সময় পেরিয়ে যাওয়ায় দেহে পচন ধরেছিল। তার উপর কুকুরের আক্রমণে দেহের একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডান হাতটি দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায় বলেও তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে। এই কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে মৃতের পরিচয় এবং অন্যান্য তথ্য নিশ্চিত করতেও তদন্তকারীদের সমস্যায় পড়তে হয়।
ঘটনার সূত্র খুঁজতে ওই এলাকার প্রায় ৫০টি CCTV ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ। সেখান থেকেই একটি টেম্পোর গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। বুধবার রাতে তল্লাশি চালিয়ে ওই টেম্পোর চালককে আটক করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই তদন্তকারীরা আরও কয়েক জনের নাম জানতে পারেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
পুলিশের দাবি, তদন্তে মোট চার অভিযুক্তের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে তিন জনের বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। একমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্ত হিসেবে ১৯ বছরের শিবমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি তিন জন নাবালক হওয়ায় তাঁদের ক্ষেত্রে আইনের নির্দিষ্ট বিধান মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক ফরেন্সিক ও ময়নাতদন্ত সংক্রান্ত তথ্যেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। দেহে অন্তত আটটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর। পাশাপাশি যৌন নির্যাতনের প্রমাণও মিলেছে বলে দাবি পুলিশের। ঘটনায় ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা দু’টি ছুরি এবং মৃতার পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের অনুমান, ঘটনাটি শুক্রবারের দিকে ঘটতে পারে। যদিও দেহ উদ্ধারের সময় সেটি বেশ কিছুটা পচে যাওয়ায় সঠিক সময় নির্ধারণ করা এখনও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণ পরীক্ষা করার পর ঘটনাক্রম সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই নাবালিকা পরিবারের সঙ্গে থাকতেন না। ফলে তিনি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পরিবারের নজরে আসেনি বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। সেই কারণে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার কোনও অভিযোগও থানায় দায়ের হয়নি। এখন CCTV, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ, ফরেন্সিক প্রমাণ এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রী মিলিয়ে ঘটনার সম্পূর্ণ ক্রম পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।
রাজধানীর বুকে এই ঘটনায় নিরাপত্তা এবং নাবালিকাদের সুরক্ষা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচার আদালতে হবে এবং তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরই ঘটনার প্রতিটি দিক সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসবে।



