কয়েক দিন রোদের দেখা মিলতেই বর্ষা বিদায়ের ইঙ্গিত ভেবেছিলেন অনেকে। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই বদলে গিয়েছে ছবিটা। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের আকাশে ফের মেঘের আনাগোনা, সঙ্গে বৃষ্টি। শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজোর দিনও সেই পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। ফলে বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ি ওড়ানোর পরিকল্পনাতেও বাধা আসতে পারে।
কলকাতায় শুক্রবার সকাল থেকে আকাশ মূলত মেঘলা থাকার সম্ভাবনা। মাঝে রোদের দেখা মিললেও তা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। দিনের বিভিন্ন সময়ে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। আলিপুরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ২৭ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকতে পারে।
হাওড়ার ক্ষেত্রেও ছবিটা খুব একটা আলাদা নয়। IMD-র পূর্বাভাসে ১৮ সেপ্টেম্বর সাধারণত মেঘলা আকাশের সঙ্গে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে। আগামী কয়েক দিনেও বৃষ্টির সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বিশ্বকর্মা পুজোর দিন আবহাওয়া পুরোপুরি শুকনো থাকার সম্ভাবনা কম। হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ একাধিক এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ হতে পারে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের জন্য ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ, দমকা হাওয়া-সহ ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে।
এর ফলে দুপুরের পর আকাশ পরিষ্কার হয়ে ঘুড়ি ওড়ানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে খোলা জায়গায় সতর্ক থাকার পরামর্শই প্রযোজ্য। বৃষ্টির দাপট বাড়লে বিশ্বকর্মা পুজোর বাইরের আয়োজনেও প্রভাব পড়তে পারে।
উত্তরবঙ্গে অবশ্য বৃষ্টির পরিস্থিতি আরও বেশি সক্রিয়। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের মতো জেলাগুলিতে বৃষ্টি হতে পারে। জলপাইগুড়িতে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২.২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে IMD। ১৮ সেপ্টেম্বরও সেখানে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ ও ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রায় সামান্য স্বস্তি মিলতে পারে। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি পুরোপুরি কাটবে না। কলকাতার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি থেমে থেমে চলতে পারে।
সমুদ্রের পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও নজর রয়েছে আবহাওয়া দফতরের। তবে এই মুহূর্তে মৎস্যজীবীদের জন্য বড় কোনও সতর্কবার্তার কথা জানানো হয়নি। বঙ্গোপসাগরের কিছু অংশে বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া থাকলেও উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে বাংলার আকাশ পুরোপুরি পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা কম। কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে ছাতা সঙ্গে রাখাই নিরাপদ, আর উত্তরবঙ্গে বিশেষ করে জলপাইগুড়ি-সহ তরাই-ডুয়ার্স এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দ মিললেও আবহাওয়ার আচমকা পরিবর্তনের দিকে নজর রাখাই হবে সবচেয়ে জরুরি।



