নন্দীগ্রামে ভোটের আগে নতুন টুইস্ট! শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ মমতার প্রার্থী সঞ্চিতার

নির্বাচন কমিশনের নতুন প্রতীক পাওয়ার পর নন্দীগ্রামের মমতা-শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের খবর ঘিরে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে নতুন জল্পনা। নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর শিবিরকে নতুন নাম ও ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়ার পরেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র সঙ্গে নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র সাক্ষাতের খবর সামনে এসেছে। সূত্রের দাবি, শুক্রবার অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে নবান্নে গিয়ে শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করেন সঞ্চিতা।

সঞ্চিতা ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, ভোটের লড়াইয়ে নামার আগে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আশীর্বাদ নিতেই তিনি গিয়েছিলেন। যদিও এই সাক্ষাৎ নিয়ে নবান্ন বা সঞ্চিতার শিবিরের তরফে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কোনও বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে দু’জনের মধ্যে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করেছে মমতা-সমর্থিত তৃণমূল শিবির। অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির প্রার্থী করেছে মহম্মদ এহতেশামুল হককে। অর্থাৎ একই দলের দুই শিবিরের প্রার্থীই নন্দীগ্রামে মুখোমুখি। ৬ অক্টোবর এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে।

সঞ্চিতাকে প্রার্থী করার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি নন্দীগ্রামের বয়াল-২ এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা। নন্দীগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতিতেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ছিলেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

সঞ্চিতার নাম ২০১৪ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলাতেও উঠে এসেছিল। ২০২২ সালে কলকাতা হাই কোর্ট ২৬৯ জন প্রাথমিক শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছিল, সেই তালিকায় সঞ্চিতার নামও ছিল বলে আদালত-সংক্রান্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে।

তবে এই মামলার পরবর্তী আইনি পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলাদা তথ্য রয়েছে। ফলে সঞ্চিতার চাকরি বর্তমানে ঠিক কোন অবস্থায় রয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের সাম্প্রতিক নথি দেখা জরুরি। এই বিষয়টি ঘিরে বিরোধীদের বক্তব্য থাকলেও তা রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখ করা উচিত।

সঞ্চিতার প্রার্থী হওয়ার পিছনে তাঁর স্থানীয় পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। নন্দীগ্রামের স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ এবং পঞ্চায়েত স্তরে কাজের অভিজ্ঞতাকেই প্রার্থী বাছাইয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তবে মমতা শিবিরের তরফে প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে একটি আসন ছাড়ার নিয়ম অনুযায়ী তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন এবং ভবানীপুর ধরে রাখেন। সেই কারণেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হচ্ছে।

এই উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী করেছে হাসিরানি রথকে। তিনি শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের মা। ফলে নন্দীগ্রামের ভোটে বিজেপির প্রার্থী বাছাইয়েও স্থানীয় রাজনৈতিক আবেগ ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তার উপর নতুন করে যোগ হয়েছে তৃণমূলের নাম ও প্রতীকের বিতর্ক। নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দুই শিবিরকে বিকল্প নাম ও প্রতীক বেছে নিতে বলেছিল। পরবর্তী নির্দেশে মমতা শিবিরের জন্য ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ ও ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফলে নন্দীগ্রামের ময়দানে এবার সঞ্চিতা প্রধান দে-র নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ও আলাদা। ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক নিয়ে তাঁর লড়াই কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ধারণ হবে ৬ অক্টোবরের ভোটে। তার আগে নবান্নে শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর কথিত সাক্ষাৎ নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা তৈরি করেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন