জোড়াফুল ফ্রিজ হতেই মমতার পাশে রাহুল, কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বার্তা কংগ্রেস নেতার

তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ালেন রাহুল গান্ধী। সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে পোস্ট করলেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ালেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। লোকসভার বিরোধী দলনেতা শুক্রবার প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, বিষয়টি শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই নয়। তাঁর বক্তব্য, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান এমন রাজনৈতিক দল এবং ভোটারদের কাছেও এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

১৭ সেপ্টেম্বর রাতে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) জানায়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বাধীন দুই গোষ্ঠীই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং সংরক্ষিত ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই শিবিরকেই বিকল্প তিনটি নাম এবং তিনটি করে মুক্ত প্রতীকের পছন্দ জানাতে বলা হয়।

কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরই রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। শুক্রবার সকালে রাহুল গান্ধী সামাজিক মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে লেখেন, তাঁর মতে বিষয়টি শুধু তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একই সঙ্গে তিনি বিজেপিকে নিশানা করে অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে দল ভেঙে দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রতীক হারানোর একটি ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে।

রাহুল তাঁর পোস্টে শিবসেনা, এনসিপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রসঙ্গ টেনে একই ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, কোনও একটি রাজনৈতিক দলের পরিচয় ও প্রতীক নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশের ভোটপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এটি অবশ্য রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক বক্তব্য এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাঁর নিজস্ব অবস্থান।

রাহুলের এই মন্তব্যের পর কালীঘাট শিবিরের তরফে তাঁকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে বলে খবর। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কংগ্রেসের কোনও নতুন নির্বাচনী জোট তৈরি হয়েছে—এমন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি। ফলে রাহুলের বক্তব্যকে আপাতত রাজনৈতিক সমর্থন ও কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

শুধু রাহুল গান্ধী নন, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপাল (K. C. Venugopal)-ও কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যেও নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র আপত্তি প্রকাশ পেয়েছে।

এ দিকে আম আদমি পার্টির (AAP) নেতা অরবিন্দ কেজরীবাল (Arvind Kejriwal)-ও সামাজিক মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে মন্তব্য করেছেন বলে খবর। কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বিজেপিকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন করেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনে জয় পাওয়া সম্ভব কি না।

অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী আদেশে বলা হয়েছে, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দলীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মূল বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও বাকি। কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি Election Symbols (Reservation and Allotment) Order, 1968-এর ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করতে হবে। আপাতত উপনির্বাচনের স্বার্থে দুই পক্ষকে আলাদা নাম ও প্রতীকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মমতা শিবির ইতিমধ্যেই ‘সবচেয়ে জোরালো প্রতিবাদ’ জানিয়ে কমিশনের কাছে বিকল্প নাম ও প্রতীকের পছন্দ পাঠিয়েছে বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও উপনির্বাচনের প্রক্রিয়া যাতে থমকে না যায়, সেই কারণে বিকল্প পরিচয়ের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে কালীঘাট।

ফলে জোড়াফুল প্রতীক ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে। এক দিকে মমতা শিবিরের আইনি ও সাংগঠনিক লড়াই, অন্য দিকে রাহুল গান্ধী, কে সি বেনুগোপাল এবং অরবিন্দ কেজরীবালের প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে আসন্ন উপনির্বাচনের আগে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে দুই দলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক জোটের বিষয়ে এখনও কোনও ঘোষণা নেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন