ভোটের মুখে বাংলার রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির জোরদার বার্তা—রায়গঞ্জের মঞ্চ থেকে একসঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূলকে নিশানা করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, বাংলায় বিজেপির উত্থানের পিছনে দায়ী তৃণমূলই।
উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ-এর সভা থেকেই রাহুলের স্পষ্ট বার্তা—“বাংলায় বিজেপির জন্য রাস্তা করছে তৃণমূল।” তাঁর যুক্তি, যদি রাজ্যে হিংসা ও দুর্নীতি না থাকত, তাহলে বিজেপির এতটা জায়গা তৈরি হত না।


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে নিশানা করে রাহুল বলেন, “উনি আমার চোখে চোখ রাখতে পারেন না।” একইসঙ্গে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন—সংবিধানের উপর আক্রমণ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ এবং অর্থনৈতিক নীতিতে সাধারণ মানুষের ক্ষতির অভিযোগ করেন তিনি।
তবে শুধু কেন্দ্র নয়, রাজ্যের শাসকদল All India Trinamool Congress-কেও ছাড়েননি কংগ্রেস নেতা। সারদা ও রোজ ভ্যালি চিটফান্ড কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে কয়লা দুর্নীতি—একাধিক ইস্যু তুলে তৃণমূলকে তোপ দাগেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, “মোদী যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হন, তৃণমূলও পিছিয়ে নেই।”
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, এই চুক্তির ফলে দেশের কৃষি ও শিল্পক্ষেত্র বড় ধাক্কা খাবে। “ভারতের কৃষিক্ষেত্র আমেরিকার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে”—এমন দাবি তুলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এতে ছোট কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।


এই প্রসঙ্গেই মোদী-মমতা—দুই শিবিরকেই একসঙ্গে আক্রমণ করে রাহুল বলেন, “বাংলায় মমতা শিল্প বন্ধ করেছেন, আর মোদী সারা দেশে তা করবেন—ফলে বাংলার দ্বিগুণ ক্ষতি হবে।”
এ দিনের সভায় বেকারত্ব, যুবসাথী প্রকল্প এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এমনকি আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন।
রায়গঞ্জে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মোহিত সেনগুপ্তকে সামনে রেখে লড়াই জোরদার করার বার্তা দেন রাহুল। অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রয়াত প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি বেঁচে থাকলে বাংলার রাজনৈতিক চিত্র ভিন্ন হতে পারত।
সব মিলিয়ে, রায়গঞ্জের সভা থেকে কংগ্রেস স্পষ্ট করে দিল—এই নির্বাচনে তারা সরাসরি বিজেপি ও তৃণমূল—দুই শক্তির বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নামছে।








