ভারতের জনগণনার ইতিহাসে নতুন অধ্যায়—প্রথমবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুরু হল ২০২৭ সালের জনগণনার প্রক্রিয়া। আজ থেকে ‘হাউসলিস্টিং ও হাউজিং সেনসাস’ পর্বের সূচনা, যেখানে নাগরিকরা চাইলে নিজেরাই অনলাইনে তথ্য জমা দিতে পারবেন। সরকারের এই উদ্যোগ শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং আধুনিক করে তোলার বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
Union Ministry of Home Affairs জানিয়েছে, প্রথম ধাপের ফিল্ড অপারেশন শুরু হয়েছে দেশের একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে—আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, গোয়া, কর্নাটক, লক্ষদ্বীপ, মিজোরাম, ওড়িশা ও সিকিমে। পাশাপাশি রাজধানী দিল্লির NDMC এবং ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকাতেও এই কাজ শুরু হয়েছে।


এই পর্যায় চলবে টানা ৩০ দিন, অর্থাৎ আগামী মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত। প্রশিক্ষিত গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। তবে এবারই প্রথম, নাগরিকদের জন্য চালু হয়েছে স্ব-নিবন্ধন বা ‘সেলফ এনুমারেশন’ ব্যবস্থা।
একটি নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালে গিয়ে মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে লগ-ইন করে পরিবারের তথ্য নিজেই জমা দেওয়া যাবে। এই পোর্টাল ১৬টি ভাষায় উপলব্ধ, ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সহজেই অংশ নিতে পারবেন। তথ্য জমা দেওয়ার পর একটি ইউনিক আইডি দেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে গণনাকারীকে দেখাতে হবে।
প্রথম ধাপে মূলত বাড়ি এবং পরিবারের জীবনযাত্রার মান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—বাড়ির নির্মাণ উপকরণ, মালিকানা, পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, রান্নার জ্বালানি, পরিবারের সদস্য সংখ্যা ইত্যাদি। পাশাপাশি পরিবারের কাছে মোবাইল ফোন, যানবাহন বা ইন্টারনেট পরিষেবা রয়েছে কি না, তাও জানা হবে।


সরকার ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই ধাপের প্রশ্নমালা চূড়ান্ত করেছে। এই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই ২০২৭ সালে চূড়ান্ত জনগণনার কাজ সম্পন্ন হবে।








