সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস না হওয়ার পরের দিনই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় তাঁর এই ভাষণ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে—কী বার্তা দেবেন তিনি, কোনও বড় ঘোষণা আসতে পারে কি না, তা নিয়েই এখন জোর জল্পনা।
সরকারি সূত্রে ভাষণের নির্দিষ্ট বিষয় জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সদ্য সমাপ্ত সংসদ অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকারের যে ধাক্কা লেগেছে, তার প্রেক্ষিতেই এই ভাষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
শুক্রবার লোকসভায় পেশ হওয়া ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল—যার মধ্যে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব ছিল—তা পাশ করাতে ব্যর্থ হয় কেন্দ্র। দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়ায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়। ভোটাভুটিতে মোট ৫২৮ জন সাংসদ অংশ নেন, যার মধ্যে পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট এবং বিপক্ষে যায় ২৩০টি।
এই বিলকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতও দেখা যায়। কেন্দ্রের অভিযোগ, বিরোধীরা নারী সংরক্ষণের বিরোধিতা করেছে। পাল্টা বিরোধীদের দাবি, এই বিলের আড়ালে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষ অধিবেশনে কেন্দ্র মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানোর লক্ষ্য নিয়েছিল—মহিলা সংরক্ষণ, লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আসন বৃদ্ধি। কিন্তু প্রথম বিলটি পাস না হওয়ায় বাকি দু’টি নিয়ে আর ভোটাভুটি হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। অনেকেই মনে করছেন, সংসদের এই ফলাফল, সরকারের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিতে পারেন।



